ভগবানের মূর্তির সামনে ভোগ নিবেদন করে প্রতিদিন নিজের হাতে মন্দিরের দরজা বন্ধ করেন পুরোহিত। ভক্তদের সামনেই বিশালাকার তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বিকেল পাঁচটায়। তার পর চাবি নিয়ে বাড়ি চলে যান মন্দিরের পুরোহিত।

পর দিন সকালে তিনি এসেই দরজা খোলেন মন্দিরের, জমায়েত ভক্তদের সামনে। এবং প্রতিদিনের মতোই অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হন সকলে— ভোগের বেশিরভাগটাই কেউ খেয়ে নিয়েছে। ভোগের সঙ্গে রাখা পানের খিলিটি কেউ চিবিয়ে রেখে দিয়েছে।

অবাস্তব, কল্পনা, সাজানো গল্প— এমন অনেক শব্দই মাথায় আসবে এই কাহিনি শোনার পরে। কিন্তু এটাই যে সত্য। বৃন্দাবনের মথুরার খুব কাছেই রয়েছে নিধিবন নামে এক জায়গা, যাকে ঘিরেই রয়েছে এমন কাহিনি।


রিদাসের সমাধিস্থলে। ছবি: উত্তর প্রদেশ ট্যুরিজমের ওয়েবসাইটের

নিধিবনের সবুজের মাঝে শ্রীরাধা ও গোপিনীদের সঙ্গে আজও রাসলীলায় মেতে ওঠেন শ্রীকৃষ্ণ— এমনটাই বিশ্বাস করেন স্থানীয়রা। কিন্তু সেই লীলা এখনও কেউ চাক্ষুষ করেনি। আর যারা করেছে, তারা হয় পাগল হয়ে গিয়েছে। না হলে, হারিয়েছে দৃষ্টিশক্তি।

নিধিবনে রয়েছে প্রচুর তুলসী গাছ। রয়েছে অন্য গাছও। রাত হলে এই তুলসী ও অন্যান্য গাছগুলিই নাকি রূপ নেয় গোপিনীদের। আর তখনই শ্রীকৃষ্ণ নেমে আসেন এই বনাঞ্চলে। 

নিধিবনের দ্রষ্টব্য আরও যা রয়েছে— 

১। নিধিবনের ভিতরেই রয়েছে ‘রংমহল’ নামে একটি মন্দির। স্থানীয়রা একে বলে রাধারানির ‘শৃঙ্গার-ঘর’। জনশ্রুতি, শ্রীকৃষ্ণ এই ঘরেই নিজের হাতে সাজিয়ে দেন রাধাকে। যে কারণে, এই মন্দিরকক্ষে রয়েছে সাজগোজের সামগ্রী ও গয়না। 

২। উত্তর প্রদেশের পর্যটন বিভাগের ওয়েবসাইটেও উল্লেখিত হয়েছে নিধিবনের। ভক্ত ও পর্যটকদের জন্য বনাঞ্চলের মাঝ দিয়েই তৈরি করা হয়েছে পাথরের একটি হাঁটাপথ, যা পৌঁছে দেবে কৃষ্ণভক্ত হরিদাসের সমাধিস্থলে। 

৩। গোপিনীদের জল তেষ্টা মেটাতে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বাঁশি দিয়ে নিধিবনের এক জায়গার মাটি খুঁচিয়ে তোলেন। সেখানেই সৃষ্টি হয় ‘ললিতকুণ্ড’

প্রসঙ্গত, ৫০০০ বছর আগে বৃন্দাবনের এই নিধিবনেই মেতে উঠতেন রাসলীলায়, যা আজও মানুষ বিশ্বাস করেন। এবং সেই বিশ্বাস এতটাই দৃঢ় যে বনাঞ্চলের দিকের জানালা-দরজা বিকেল হলেই বন্ধ করে দেন স্থানীয়রা। কারণ- সেই দৈবলীলা দেখলে বিহ্বল হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।