কংগ্রেস নেতারা ভেবেই পাচ্ছেন না ঠিক কী ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন। প্রাক্তন রেলমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা সিকে জাফর শরিফ আবার চিঠিও লিখে ফেলেছেন। কেউ বলছেন, যিনি সমালোচনা করেছিলেন তাঁকেই ডাকতে হল শেষমেশ।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় আরএসএস সদর দফতরে যাওয়ার নিমন্ত্রণ গ্রহণ করার পরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। ৭ জুন তিনি নাগপুরে গিয়ে ভাষণ দেবেন সঙ্ঘের প্রচারকদের উদ্দেশে।  

কিন্তু ইতিহাস ঘাঁটতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে প্রণবই প্রথম নন, মহাত্মা গাঁধীও ১৯৩৪ সালে আরএসএস-এর শিবিরে গিয়েছিলেন।

১৯৩৪-এর ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধা জেলায় আরএসএস-এর শীতকালীন শিবির বসেছিল। যে খোলা মাঠে প্রায় ১৫০০ স্বয়ংসেবক ক্যাম্প করছিলেন, তার উল্টো দিকের একটি বাড়িতেই গাঁধীজি ছিলেন। 

স্বয়ংসেবকেরা কী ভাবে নিজে হাতে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে কাজ করছিলেন, তা দেখতেই গাঁধীজি আরএসএস শিবিরে যাবেন বলে ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পরের দিন ২৫ ডিসেম্বর সকাল ৬টার সময় তিনি আরএসএস-এর শিবিরে উপস্থিত হন। সেখানে স্বয়ংসেবকদের সঙ্গে কথাও বলেন। সেই সময়ে যেহেতু তিনি হরিজনদের নিয়ে কাজ করছিলেন, সেই বিষয়েও আলোচনা করেন উপস্থিত সকলের সঙ্গে। শিবিরে সবাই এক সঙ্গে মাটিতে শোয় এবং এক সঙ্গে রান্না করে শুনে তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন। পরে সংঘের প্রতিষ্ঠাতা কেবি হেগড়েওয়ার গাঁধীজির সঙ্গে দেখা করেন।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

ডিজি তেন্ডুলকরের ‘মহাত্মা’ ও ভি রামস্বামী সম্পাদিত ‘মহাত্মা গাঁধী: দ্য লাস্ট টু হান্ড্রেড ডেজস’ বইয়ে উল্লেখ রয়েছে যে, আরএসএস ক্যাম্পের অভিজ্ঞতা গাঁধীজি ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সংঘের কর্মীদেরই একটি সভায় ব্যক্ত করেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘‘অনেক বছর আগে সংঘের প্রতিষ্ঠাতা হেগড়েওয়াড় যখন বেঁচে ছিলেন, তখন শেঠ জামনালাল আমাকে ওয়ার্ধার শিবিরে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানকার অস্পৃশ্যতার অনুপস্থিতি ও শৃঙ্খলা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। আত্মত্যাগ ও সেবার আদর্শে যে সংগঠন কাজ করে, তা বেড়ে উঠবেই। কিন্তু সমাজের উপকার করতে গেলে, আত্মত্যাগের সঙ্গে সংগঠনের উদ্দেশ্যর শুদ্ধতা ও সত্য জ্ঞানকে যুক্ত করতে হবে। এই দু’টি বিষয় ছাড়া ত্যাগ সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারকই হয়ে থাকে।’’

এই আরএসএস-কেই অবশ্য গাঁধীজির হত্যার জন্য দায়ী করা হয়। সম্প্রতি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীও একই অভিযোগ তুলে অবমাননার মামলার মুখে পড়েন। 

২০১৮ সালে পরিস্থিতি ভিন্ন। আরএসএস-এর হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শকে কার্যকারী করতে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার কাজ করছে বলেই অভিযোগ উঠছে। সংখ্যালঘু ও দলিতদের কোণঠাসা করছে এই সরকার,  বার বার এমনও অভিযোগ উঠছে।

এমন পরিস্থিতিতে, প্রণব মুখোপাধ্যায় আরএসএস-এর শিক্ষা বর্গের শিবিরে গিয়ে কী বার্তা দেন, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।