স্নানাগার থেকে হাঁক পেড়ে পরিচারিকাকে ‘টাওয়েল’ এনে দিতে বলেন গৃহকর্তা। পরিচারিকা স্নানাগারের সামনে দাঁড়াতেই টাওয়েল নেওয়ার অছিলায় পরিচারিকার হাত স্পর্শ করে যায় গৃহকর্তার হাত।

পরিবারে তিনি কত অসুখী তা গৃহকর্তা বোঝানোর চেষ্টা করেন পরিচারিকাকে। পরিচারিকা সমবেদনা জানিয়ে ফেললেই বিভিন্ন অজুহাত এবং ইঙ্গিতে তাঁর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠার চেষ্টা করেন গৃহকর্তা। 

#মিটু আন্দোলন ডানা মেলার পর কর্মস্থলে যৌন হেনস্থা নিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে পশ্চিমবঙ্গ গৃহ পরিচারিকা সমিতি। প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে সমিতির পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে কর্মস্থলে যৌন হেনস্থা কী, তা পরিচারিকাদের বোঝানো যায়। কারণ, যৌন হেনস্থার সংজ্ঞাই অনেক পরিচারিকার কাছে স্পষ্ট নয়।

সংগঠনের কলকাতা জেলার নেত্রী তাপসী ময়রার কথায়, ‘‘বহু পরিচারিকাই কর্মস্থলে যৌন হেনস্থার শিকার হন। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, কর্মস্থলে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করতে বাধ্য করলে তবেই তাকে যৌন হেনস্থা বলে। অশোভনীয় ইঙ্গিত বা কথাবার্তাও যে এক ধরনের যৌন হেনস্থা তা অনেকেই জানেন না। বৈঠকে অনেকেই তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তখন দেখি দশ জনের মধ্যে পাঁচজন কোনও না কোনও ধরনের যৌন হেনস্থার শিকার। আমরা সংগঠনের সদস্যাদের যৌন হেনস্থা নিয়ে সচেতন করার চেষ্টা করছি।’’

দীর্ঘ আন্দোলনের পর ট্রেড ইউনিয়নের স্বীকৃতি পেয়েছে সমিতি। নেতৃত্বের আশা, সেই স্বীকৃতি তাদের কর্মস্থলে যৌন হেনস্থার প্রতিবাদে সাহায্য করবে। তাপসী বলেন, ‘‘কর্মস্থলে যৌন হেনস্থার শিকার পরিচারিকার কাছে তিনটি দিক খোলা থাকে। তিনি সম্মান বাঁচাতে চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন। না হলে প্রতিবাদ করতে পারেন। তৃতীয়ত, তিনি মুখ বুজে মেনে নিতে পারেন। আর্থিক দিক থেকে দুর্বল হওয়ায় চাকরি হারাবার ভয়ে অনেক কিছুই মেনে 
নিতে হয়।’’ 

কর্মস্থলে যৌন হেনস্থার অভিযোগের তদন্তের জন্য প্রতিটি সরকারি এবং বেসরকারি অফিসে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা রয়েছে আইনে। কিন্তু পরিচারিকাদের কর্মস্থলে এই কমিটি গঠন সম্ভব নয়। তাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কিছু নেই বলেই মনে করছে পরিচারিকাদের সংগঠন। 
#মিটু আন্দোলন পরিচারিকাদের সংগঠনের কাছে নীরবতা ভাঙতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন সংগঠনের নেতৃত্ব। তাপসী বলেন, ‘‘আমরা যখন বৈঠকে যৌন হেনস্থা নিয়ে আলোচনা করি, তখন অনেক পরিচারিকাই জানান, তাঁরা যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন।’’