সরকারি অফিস হোক কিংবা বেসরকারি, সপ্তাহে অন্তত একটা দিনের ছুটি আপনি পান। কিন্তু আপনি আপনার বাড়ির কাজের মাসিকে তা দেন কি? সিএল? পুজোয় বোনাস? না, সে সবের প্রশ্নই ওঠে না।

শহর কলকাতা কিংবা এ রাজ্যের জেলাতেও গৃহপরিচারিকাদের পরিস্থিতি বছরের পর বছর প্রায় একই রয়ে গিয়েছে। মাইনে কিছু বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু তা-ও তাঁদের উপযুক্ত প্রাপ্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

তবে কি না উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্তের যাবতীয় ‘বাবুয়ানি’ এবার প্রশ্নচিহ্নের মুখে। কাজের লোক কিংবা কাজের মাসিদের সংগঠিত করতে গড়ে উঠেছে ‘পশ্চিমবাংলা গৃহপরিচারিকা কল্যাণ সমিতি’। কলকাতা ছাড়াও বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি জেলায় কাজ করছে এই সংগঠন।

সামনেই দুর্গাপুজো। এই অবস্থায় তাঁদের প্রধান দাবি দু’টি—
১। বিনা নোটিশে কোনও অজুহাতেই কাজ ছাড়ানো যাবে না।
২। পুজোর আগে কাজ ছাড়াতে হলে পুজোর বোনাস সহ প্রাপ্য মাইনে দিয়ে দিতে হবে।

নিজেদের ন্যায্য দাবি জানিয়ে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগানোও শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। কার্টুন আর ক্যাপশনে অনেক মানুষেরই নজর কাড়ছে সেই পোস্টার। আর ভেতরের সারকথা, অনেক গৃহকর্ত্রী কিংবা গৃহকর্তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের জন্মও দিচ্ছে এই ঘটনা!


এই পোস্টারই লাগানো হচ্ছে। ছবি: ‘পশ্চিমবাংলা গৃহপরিচারিকা কল্যাণ সমিতি’-র ফেসবুক পেজ

পোস্টারে বলা হয়েছে যে ছাঁটাই বা বোনাস ছাড়া অন্য কোনও ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রেও ‘পশ্চিমবাংলা গৃহপরিচারিকা কল্যাণ সমিতি’-র সঙ্গে যোগাযোগ করতে। সমিতির অন্যতম সংগঠক শ্রীরূপা মান্না জানান, ন্যূনতম মজুরির জন্য সরকারের কাছে ইতিমধ্যেই দাবিপত্র পেশ করা হয়েছে। গৃহপরিচারিকাদের ‘অদক্ষ শ্রমিক’ ধরেই ৮ ঘণ্টার শ্রমের বদলে কমপক্ষে ১২-১৩ হাজার টাকা মাসিক মাইনের কথা বলা হয়েছে। এই দাবি মানা হলে, উক্ত হিসেবে এক জন একটি বাড়িতে যতক্ষণ কাজ করেন, সেই হারে তাঁকে বেতন দিতে হবে।


‘পশ্চিমবাংলা গৃহপরিচারিকা কল্যাণ সমিতি’-র ফেসবুক পেজ

শুধু দেওয়ালে পোস্টার সাঁটাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁরা সক্রিয়। নিজেদের প্রাপ্য আদায় করে নিতে সোচ্চার হচ্ছেন। যেমন লিখছেন, ‘‘সামান্য মাইনের চাকরিতে পুজোর আগে বোনাস দিতে সমস্যাটা কোথায়! সমস্যাটা যত না বোনাসের টাকার অঙ্কে, তার চেয়ে অনেক বেশি বোনাস চাওয়ার অধিকার মেনে নেওয়াতে।... একটা ভাল কাপড় শাড়ি আর বোনাসের টাকা প্রায় সমানই। তবু এই খুঁতখুঁত করা মনের পিছনে কারণটা কী? আসলে শাড়ি-কাপড় কিনে দেওয়ার মধ্যে একটা ক্ষমতার উপরে থাকা সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার পরিচয় রয়েছে, যা সরাসরি বোনাসের টাকা দেওয়ার মধ্যে নেই। বোনাসের টাকা দেওয়া চাওয়ার মধ্যে রয়েছে মালিকপক্ষ-শ্রমিকপক্ষের ক্রূর বিভাজন। তাই অনেক সময়েই বহুদিনের লালিত অভ্যেস ছেড়ে ক্রূর সত্যে নিজেকে 'শোষণক্ষম' মালিক মনে করাটা খুব কষ্টসাধ্য হয়।’’

বাংলার দাদা-বউদিরা কি আকাশে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন?