অনেকেই নিশ্চিন্ত হয়েছেন মাঝেরহাট ব্রিজের ভেঙে পড়ার ঘটনায়। তাড়াতাড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়ার দরকার হয়নি। বেশি দুঃখ করারও প্রয়োজন হয়নি। কারণ, দুর্ঘটনা ‘অতটাও’ বড় নয়। এত্তো বড় ব্রিজের সামান্য একটা অংশ ভেঙে পড়েছে। তার থেকেও বড় কথা মৃত্যুর সংখ্যাটা ‘মাত্র’ ১। 

সংখ্যা দিয়েই তো অনেক কিছু বিচার হয়ে যায়। পোস্তার ১৬ জনকেই মনে রাখেননি। আর এখানে তো মাত্র ১ জন। দু’দিন চায়ের ভাঁড়ে আলোচনা। তার পরে বেহালা থেকে একবালপুর বাস চলতে শুরু করে দিলেই হয়ে গেল।

সৌমেন বাগকে আপনিও চিনতেন না। আমিও চিনতাম না। মঙ্গলবার রাতে প্রথম এই যুবকের ছবি দেখলাম। দুঃখপ্রকাশ যা করার করে ফেলেছি। যার গেছে তার গেছে। আমি-আপনি সামনের রাস্তা খুঁজি বরং।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

না, না রাস্তা মানে রাস্তাই। ব্রিজ ভেবে ভুল করবেন না। ‘‘ও সব দেখে নেব আমরা। কোনও মৃত্যুই সুখের নয়। আমরা বেদনাহত,’’— এই রকম বাণী শোনা হয়ে গিয়েছে অনেকবার। এবার নিজের রাস্তা নিজে দেখে নিনি ভাই। বোনেরাও।

ব্রিজের কোনখানে কে, কোনটা দেখতো, নাকি তাকিয়ে থাকত, নাকি পাশে গর্ত খুঁড়ত, এই সব ঢিল ছোড়াছুড়ি চলুক। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার পরেও এমন একটা লোককে পাওয়া গেল না, যাঁকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসা করা যায়— ‘‘দাদা (বা দিদি) আপনি আপনার কাজটা ঠিক করে করেননি কেন? তাহলে তো সৌমেন বেঁচে যেত।’’ এমন যখন অবস্থা তখন আর কাউকেই পাওয়া যাবে না। 

কাদা ছোড়াছুড়ি করতে করতে এদিক ওদিক দিয়ে সবাই হাত ফস্কে বেরিয়ে যাবে। হাতে থেকে যাবে পেনসিল। পোস্তার কালপ্রিটদের কী হল মনে যখন পড়ছে না, তখন মাঝেরহাটও হাওয়া হয়ে যাবে তাড়াতাড়ি। 

তার থেকে বরং কোন রাস্তা দিয়ে যাবেন, ভেবে রাখুন। বাড়িতে মা বলে দিয়েছেন, ‘‘আর ব্রিজের উপর দিয়ে যাস না বাবা।’’ মেট্রোতে আগুন লাগার সময়েও বলেছিল একই কথা। অন্য শহরে বিস্ফোরণ হলেও একই কথা বলেন মা। 

কিন্তু পুরো শহরটাকেই যখন উড়ালপুলের উপর দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাওযার পরিকল্পনা হচ্ছে, তখন আপনি ব্রিজ থেকে নামবেন কোন দিক দিয়ে। এমনকী মেট্রোর জন্যও তো তৈরি হয়েছে উঁচু উঁচু থামের উপরে রেলপথ। পালাবেন কোন দিকে? 

মুখ বন্ধ রাখলেও চোখ খুলে রেখে চলুন। কোথাও হোঁচট খাওয়ার আগে সাবধান হয়ে যান। পাশের দাদা বা দিদিকে বলুন। আর না হলে একদম রামনাম (এটা কিন্তু সেকুলার) জপ করতে করতে এগিয়ে যান। 

সার কথা একটাই— এত হইচই করে লাভ নেই। মারা গেছেন মাত্র এক জন। আপনি নিজের রাস্তা দেখুন।