১৯৯০ সালের ১৬ অগস্ট হাজরা মোড়ে সিপিএম-এর যুব কর্মী লালু আলমের ডান্ডার মারে মাথা ফেটেছিল তৎকালীন কংগ্রেস যুব নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সিপিএম-এর হাতে আহত হয়ে তীব্র বাম-বিরোধী রাজনীতির শিরোনামে চলে এসেছিলেন আজকের বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

লালু আলমের হাতে আক্রান্ত হওয়া যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট হয়, তবে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে অন্য একটি টার্নিং পয়েন্টে কৃতজ্ঞ থাকতেই পারেন তিনি।

মমতার সংসদীয় রাজনৈতিক জীবনের শুরুই হয়েছিল সোমনাথের নির্বাচনী পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে। ১৯৮৪ সালে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে সিপিএম-এর জাঁদরেল প্রার্থী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে পরাজিত করে প্রথম বার লোকসভায় পা রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এটি ছিল অবাক করা জয়। সংসদীয় রাজনীতিতে নবাগতা মমতার কাছে বেশ কয়েকবারের সাংসদ সোমনাথ হেরে যাবেন, এটা ভাবতেও পারেননি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ইন্দিরা গাঁধীর মৃত্যুর পর যে সমবেদনার হাওয়া কংগ্রেসের দিকে উঠেছিল, সেই হাওয়াতেই সোমনাথকে হারিয়ে দিল্লি গিয়েছিলেন মমতা।

সেবার প্রায় ৪৯.৮ শতাংশ ভোটদাতার সমর্থন পেয়ে ১৯,৬৬০ ভোটে সিপিএম-এর প্রার্থীকে হারিয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী মমতা।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

যদিও পরের ১৯৮৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে ওই কেন্দ্রেই সিপিএম-এর প্রার্থীর কাছে ৩০,৯০০ ভোটের ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় আর মমতার বিরুদ্ধে দাঁড়াননি। তাঁর জায়গায় সিপিএম-এর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন যাদবপুরের অধ্যাপিকা মালিনী ভট্টাচার্য।

মমতার রাজনৈতিক জীবনে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁর শত্রুপক্ষের এক জন সৈনিক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। 

২০০৫ সালে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সংসদে যখন আলোচনা চেয়ে নোটিশ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন স্পীকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁর নোটিশ গ্রহণ করেননি।

সেই রাগে মমতা স্পিকারের চেয়ারের দিকে কাগজ ছুড়ে দিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন। যদিও স্পিকারের চেয়ারে তখন সোমনাথ ছিলেন না, ছিলেন ডেপুটি স্পিকার চরণজিৎ সিংহ অটওয়াল। 

সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে মমতার টুইট:

পরে সোমনাথের অফিসে লোক মারফৎ নিজের পদত্যাগপত্র পাঠালেও, মমতার পদত্যাগ গ্রহণ করেননি স্পিকার। নিয়ম অনুযায়ী নিজে হাতে চিঠি লিখে, নিজে লোকসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগ করতে হয় সাংসদদের।

মমতার নিশানায় সে সময় তিনি ‘শত্রু’ হলেও, সিপিএম থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর সোমনাথের সঙ্গে মমতার ঘনিষ্ঠতার ছবিও দেখা যায়।

পরে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের নামও প্রস্তাব করেছিলেন মমতা। কিন্তু রাজনীতির ঘোলা জলে সে প্রস্তাব হারিয়ে যায়। 

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে সোমনাথকে গুরুত্ব দিতেও শুরু করেন মমতা। ১৯৮৪ সালে সোমনাথের পরাজয় হারিয়ে যায় ২০১১ সালে তৃণমূলের সরকার গড়ার উচ্ছ্বাসে। 

Copyright © 2018 Ebela.in - All rights reserved