সব কিছুতেই রাজনীতি। এই বাংলায় এটা নতুন কিছু নয়। বাম জমানা থেকে পরিবর্তনের জমানায় শিক্ষা থেকে বিনোদন— সবেতেই শেষ কথা বলে এসেছে রাজনীতি। তবে এবার আর শুধু রাজনীতি নয়, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে রাজ্য সরকার তথা প্রশাসন হস্তক্ষেপ করছে টেলি সঙ্কট মেটাতে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটের সময়ে নবান্নে বসছে বৈঠক। সেখান হাজির থাকছেন প্রযোজক থেকে কলাকুশলী, অভিনেতাদের সংগঠন।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

মেগা সিরিয়াল নিয়ে সঙ্কটও গত কয়েকদিনে মেগা চেহারা নিয়েছে। টেলি পাড়ায় পাঁচ দিন ক্যামরা, লাইট, সাউন্ড অন হয়নি। চলছে জোর লড়াই। অধিকারের লড়াই। টিভি সিরিয়ালে সাংসারিক লড়াইয়ের মতো ধারাবাহিক ভাবে শ্যুটিং বন্ধ নিয়ে লড়াই চলছেই। দফায় দফায় বৈঠকেও মেলেনি সমাধান সূত্র। অচলাবস্থা মেটেনি শনিবার থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত।

কিন্তু এখন সবাই আশাবাদী। সকলেই মনে করছেন শুক্রবারে জেগে উঠবে টেলি পাড়া। আবার শুরু হবে শ্যুটিং। অতীতেও বিভিন্ন সমস্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সাফল্য দেখিয়েছেন তার উপরে ভরসা করেই বাড়ছে আশা। পাহাড়ের সমস্যা থেকে হাসপাতাল সব কিছু নিয়েই বার বার শেষ কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ভাবেই টেলি পাড়ার সঙ্কটও সবার সঙ্গে কথা বলে মমতা মিটিয়ে দেবেন বলেই মনে করছেন আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিনেতার বক্তব্য, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী মা-মাটি-মানুষ স্লোগানে বিশ্বাসী। আর মেগা সিরিয়াল সেই মা, মাটি, মানুষেরই অঙ্গ। তাই তিনি ভাল বুঝবেন কোন পথে সমাধান।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আর্টিস্ট ফোরাম নির্দিষ্ট সময়ে পারিশ্রমিক আর কাজের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আন্দোলনে নেমেছে। এর কোনওটাই বাড়তি দাবি নয়। সবটাই নায্য। তাই মুখ্যমন্ত্রী আমাদের স্বার্থের কথা ভাববেন।’’

একটি জনপ্রিয় সিরিয়ালের নায়িকা এদিন বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু একজন শিল্পী তাই তাঁর উপরে ভরসা রাখছি। তিনি বুঝবেন শিল্পীদের কষ্ট, বেদনা।’’ তাঁদের আরও বক্তব্য, প্রযোজকরা এমনিতেই অনেক অনিয়ম করে থাকেন, যেগুলো মুখ্যমন্ত্রীর সামনে উঠলে তাঁরা বিপদে পড়তে পারেন। এই প্রসঙ্গে মঙ্গলবারই প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠকের শেষে সাংবাদিকদের বলেন, আর্টিস্টদের থেকে টিডিএস কাটা হলেও অনেক প্রযোজক দেড় বছর ধরে তা জমা দেয়নি আয়কর বিভাগে। এই অভিযোগ তুলে প্রসেনজিৎ-এর প্রশ্ন— ‘‘এটা কোন আইনের মধ্যে পড়ে? এটা তো অন্যায়। শিল্পী তো তাঁর বেনিফিট পাচ্ছেন না।’’

অন্য দিকে, প্রযোজকরাও তাকিয়ে রয়েছেন এদিনের বৈঠকের দিকে। এক প্রযোজক বলেন, ‘‘সিরিয়াল এই রাজ্যের একটি বড় শিল্প। অনেক মানুষের রুটিরুজির ব্যবস্থা হয় এর থেকে। আমরা অর্থ বিনিয়োগ করলে শুধু অভিনেতা, অভিনেত্রীরাই নন, নানা ভাবে অনেক মানুষের আয় হয়। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের কথাও শুনবেন।’’

বাঙালির ঘরে ঘরে গত ক’দিন ধরেই চলছে সিরিয়াল বিরহ। সন্ধে অসহ্য হয়ে উঠছে নতুন নতুন এপিসোডের অপেক্ষায়। নাটকহীন হয়ে থাকা সন্ধ্যা জমাতে পারছে না রিপিট টেলিকাস্ট। তাই আর্টিস্ট, কলাকুশলী, প্রযোজক, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ থেকে বাংলার গৃহবধূ সবার নজর থাকবে নবান্নের দিকে। সেখানেই বিকেল সাড়ে চারটেয় মেগা সিরিয়ালের মেগা পর্ব। সবাই তাকিয়ে নবান্নের দিকে। সবাই তাকিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতার দিকে।