এতদিন ধরে অনেক কু-কথা বললেও, নেত্রীর স্নেহের আড়ালে থাকায় কেউ লাগাম পড়াতে পারেননি তাঁর মুখে। কিন্তু এবার সেই নেত্রীই প্রকাশ্যে বকা দিলেন।

বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ‘পুলিশকে বোমা মারা’ শুরু করে ‘চড়াম চড়াম’ উক্তি করে বার বার খবরের শিরোনামে এসেছেন। কখনও কখনও দলের নেতারা মৃদু তিরস্কার করলেও, বেশির ভাগ সময়ে দলীয় প্রশ্রয় পেয়ে গেছেন তিনি।

কু-কথার তালিকায় তাঁর সর্বশেষ সংযোজন ছিল রাজস্থানের ‘লাভ-জিহাদ’ হত্যার প্রসঙ্গে করা উক্তি। এই ঘটনায় মালদহের এক শ্রমিককে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে মারার ঘটনার ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে তৃণমূল নেতা ‌অনুব্রত বলেছিলেন, ‘‘রাজস্থানে যে ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনা এখানে হলে, যত বড়ই বিজেপি নেতা হোক, তোমাকে আমি পুড়িয়ে মারতাম। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির। জিভ টেনে ছিড়ে নেব।’’

দলের তরফে বীরভূমের পর্যবেক্ষক ফিরহাদ হাকিম জানিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল এই বক্তব্য সমর্থন করে না। 

সোমবার পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসায় প্রশাসনিক জনসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে তিরস্কার করলেন অনুব্রতকে। রাজস্থানের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কেষ্টকে (অনুব্রত মণ্ডল) শেষ বারের মতো বলে দিচ্ছি কোনও বাজে কথা যেন না বলে। এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়।’’

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

অন্যরা যে যাই বলুক, তৃণমূল নেতারা কোনও প্ররোচনায় পা দিয়ে কু-কথা যাতে না বলেন সেই নিয়েই মমতার এই হুঁশিয়ারি। যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ কথা বলছেন, তখন মঞ্চে বসে রয়েছেন অনুব্রত।

এর পরে বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের নাম না নিয়ে মমতা তাঁর উদ্দেশেই বলেন, কোনও কোনও বিজেপি নেতা বলছেন বাংলার ছেলেদের কেন বাইরের রাজ্যে যেতে হবে। কেন যাবে না? বিহারের লোকও তো আমাদের রাজ্যে আসছেন। আমি কী রাজস্থানের লোককে বলব, পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যান?

রাজস্থানের ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক সভা থেকে আবার উষ্মা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন তাঁরা এটিকেই ইস্যু করতে চাইছেন।