এ এক সাংঘাতিক জটিল পরিস্থিতি। বিয়ে করার কথা ঘোষণার পর থেকেই জট পেকেছে সন্তোষ মুরাহ সিংহের জীবনে। তিনি এক দলিত মহিলাকে বিয়ে করার কথা জানিয়েছিলেন পরিবারকে। ভালবাসা তাঁর কাছে অন্ধ হতে পারে, কিন্তু পরিবারের কাছে? দলিত মেয়ে বর্ণহিন্দু পরিবারে ঢুকবে, তা মেনে নিতে পারেননি সন্তোষের পরিবারের লোকেরা। তাঁরা কী করেছেন? সন্তোষকে যাবতীয় সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন। তাঁকে ‘মৃত’  বলে ঘোষণা করেছেন।

ব্যাপারটায় এখানেই দাঁড়ি পড়লে তা-ও একরকম হত। বারাণসীর সন্তোষ যে দিন বিয়ে করলেন, সে দিন পরিবারে ঘটা করে তাঁর শ্রাদ্ধ করা হয়েছে। এই ঘটনার শিকড়় অবশ্য বহু আগে। সেই থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে সন্তোষ ধর্নায় বসছেন নিয়ম করে। এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিকার হয়নি।

সন্তোষের একটি অন্য পরিচয়ও রয়েছে। ২০০০ সালে অভিনেতা নানা পাটেকর বারাণসী গিয়েছিলেন। সেখানে সন্তোষের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। জানা যায়, সন্তোষের রান্না এবং বিভিন্ন কাজে দক্ষতায় মুগ্ধ নানা পাটেকর তাঁকে মুম্বইয়ে ডাকেন। ২০০২ সালে এক মরাঠি দলিত মহিলার প্রেমে পড়েন সন্তোষ। বিয়েও করেন। বাড়িতে জানিয়েছিলেন সে কথা। নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফিরে শোনেন, তাঁকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মুম্বই ফেরার পরে জানতে পারেন, তাঁর শ্রাদ্ধ করে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকী একটি ডেথ সার্টিফিকেটও তৈরি করা হয়ে গিয়েছে।

সেই থেকে বেঁচে থাকার প্রমাণ দিতে লড়ে যাচ্ছেন সন্তোষ। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করেছেন। তাঁর নির্দেশে সক্রিয় হয়েছে পুলিশও। আশা করা হচ্ছে, সন্তোষ একদিন বেঁচে উঠবেনই।