ভোর ছ’টা। মধ্যপ্রদেশের ভোপালের মিসরোড অঞ্চলের একটি অ্যাপার্টমেন্টের চার তলায় ডোরবেল বাজে। ঘুম চোখে দরজা খোলেন অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা, তিনি পেশায় মডেল। আর দরজায় দাঁড়িয়ে এক কাস্টিং ডিরেক্টর। 

ঘরের ভিতরে ঢোকার পরেই শুরু হয় আসল নাটক। এবং মডেলের ঘর থেকে চেঁচামেচির আওয়াজ পেয়ে প্রতিবেশীরা খবর দেন পুলিশে। তাঁরা এসে জবরদস্তি দরজা খুলতে গেলে, কাস্টিং ডিরেক্টর রোহিত একটি কাঁচি নিয়ে আঘাত করেন সাব-ইন্সপেক্টর জি এস রাজপুতকে। একই সঙ্গে রোহিত জানান যে, তাঁর কাছে একটি বন্দুকও রয়েছে। তাঁর চাহিদা না মিটলে তিনি যে আত্মহননও করতে পারেন, এমনটাও বলেন রোহিত। 

সর্ববারতীয় এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, সারা দিনে বিভিন্ন পন্থার মাধ্যমে প্রায় ১২ ঘণ্টা পরে রোহিতকে বাগে আনতে পারে পুলিশ। মাঝে যদিও খাবার, জল, মোবাইল চার্জার ও স্ট্যাম্প পেপার চায় রোহিত।

পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার পরেই, রোহিত ও সেই মডেলকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এবং পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয় যে, তাঁরা দু’দনেই সুস্থ রয়েছেন। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

কিন্তু আসল ঘটনা কী?

পুলিশসূত্রে জানা গিয়েছে যে, মুম্বইয়ে নিজেদের পেশায় কাজ করাকালীনই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে রোহিত ও ওই মডেলের মধ্যে। তাঁরা বিয়ে করতে চাইলে দু’জনের পরিবারের তরফ থেকেই বাধা সৃষ্টি হয়। সেই জন্যই এমন পাগলামি করেন রোহিত। 

পুলিশের তরফ থেকে প্রেমিক যুগলকে আশ্বাস দেওয়া হয়, তাঁরা দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক, ফলে তাঁদের বিয়েতে তৃতীয় কেউ বাধা দিতে পারে না। এবং তাঁরা চাইলে প্রশাসনও তাঁদের সাহায্য করবে।

সব থেকে মজার ব্যাপার, পুলিশ এখনও ধন্ধে যে রোহিতকে কোন অপরাধে ‘অপরাধী’ বল যাবে!