নির্বাসন কাটিয়ে পনেরো মাস পরে কোর্টে ফিরে পর পর তিনদিন তিনটি ম্যাচ খেললেন। তিনটেই দাপটে জয়। স্টুর্টগার্ট ওপেনের সেমিফাইনালে  দাঁড় করিয়ে হারালেন বিশ্বের ৭৩ নম্বর এস্টোনিয়ার অ্যানেট কোন্টাভিটকে। ৬-৩, ৬-৪ জিততে  সময় লাগল এক ঘণ্টা ২৩ মিনিট। কোর্টের মেজাজেই মারিয়া শারাপোভা বুঝিয়ে দিচ্ছেন, সমালোচনা তিনি গায়ে মাখছেন না। 

শারাপোভার তুরীয় মেজাজটা বোঝা গিয়েছিল গতকালই। স্টুটগার্ট ওপেনের দ্বিতীয় ম্যাচেও জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়। অবধারিতভাবে সেখানে ইউজিনি বুশার্ডের মন্তব্য নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়।  গতকাল বুশার্ড বলেছিলেন, ‘‘মারিয়া একজন প্রাতরক। ওকে আর টেনিসটাই খেলতে দেওয়া উচিত নয়।’’ যে মন্তব্যকে রাশিয়ার টেনিস সুন্দরী পাত্তাই দিলেন না। বলে দিলেন, ‘‘আমার কিছুই বলার নেই। আমি এসবের উর্দ্ধে চলে গিয়েছি।’’ বুঝিয়ে দিলেন, নিজের খেলা ছাড়া অন্য কিছু নিয়েই তাঁর উৎসাহ নেই। শুধু তাই নয়, এই পনেরো মাসে কীভাবে নিজেকে প্র্যাক্টিসের মধ্যে রেখেছিলেন সেটাও বোঝা যাচ্ছে তাঁর খেলা দেখে।

স্টুটগার্টে রবার্তো ভিঞ্চির বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে শুরুতে তাঁকে কিছুটা নার্ভাস দেখিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের বয়স যত বেড়েছে তত তাঁর খেলা খুলেছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে একতারিনা মাকারোভার বিরুদ্ধে পাঁচবারের গ্র্যান্ডস্ল্যামজয়ী দ্বিতীয় সেটে তো রীতিমতো ঝোড়ো মেজাজে ছিলেন। টেনিস বিশ্লেযকরা চমকে গিয়েছেন তাঁর গ্রাউন্ডস্ট্রোক দেখে। মাকারোভা অবশ্য নিজের টেনিস জীবনে কখনও মারিয়াকে হারাতে পারেননি। স্টুটগার্টেও প্রথম সেটে সামান্য লড়াই করা ছাড়া বিশেষ কিছু করতে পারেননি। 

তাহলে শারাপোভা কী দ্রুত আগের ফর্মেই ফিরছেন? টেনিস পণ্ডিতরা উদ্বিগ্ন শুধু তাঁর সার্ভিসে ডাবলফল্ট করার প্রবণতা নিয়ে। সমস্যাটা অবশ্য নতুন কিছু না। যবে থেকে তিনি কাঁধের সমস্যায় ভুগছেন,  ততদিনই ডাবলফল্ট করে পয়েন্ট খোয়াচ্ছেন। যদিও মাকারোভার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত সাতটি ‘এস’ মেরে সে খামতি অনেকটাই পুষিয়ে দেন। এমনিতে স্টুটগার্টে সূচি যা হয়েছে, তাতে শারাপোভা বেশ সুবিধাই পাচ্ছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে যার সঙ্গে খেললেন সেই কোন্টাভিটও অবাছাই। এখানেই দ্বিতীয় রাউন্ডে ফরাসি ওপেন চ্যাম্পিয়ন গ্যাব্রিন মুগুরুজাকে হারিয়ে অঘটন ঘটালেও মারিয়ার সামনে উড়ে গেলেন। এখানে প্রথম তিনটি ম্যাচ জেতায় শারাপোভার র‌্যাঙ্কিংয়ে চারশোর মধ্যে চলে আসাটা নিশ্চিত। তাতে এমনও হতে পারে, তিনি ফরাসি ওপেন আর উইম্বলডনে সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়ে যাবেন। শেষ চারে ওটার পরে মারিয়া বলেছেন, ‘‘আবার কোর্টে ফিরে সত্যিই চমকে দিচ্ছে রজার ফেডেরার। এখন আমার কাছে যেটা মস্ত বড় অনুপ্রেরণা।’’