তৃণমূলকে আটকাতে বিজেপি-র ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে ইতিমধ্যেই বিপাকে পড়েছে সিপিএম। পঞ্চায়েতের ভোট গঠন পর্ব ঘিরে এই অস্বস্তির মধ্যে, বিজেপি-কে আটকাতে মহাজোট গঠনের নতুন মডেল উঠে এল মালদহে।

মালদহের কংগ্রেস সাংসদ মৌসম বেনজির নুর চিঠি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম-কে আবেদন জানিয়েছেন, যেখানে তাঁদের সমর্থন পেলে কংগ্রেস পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করতে পারে, সেখানে যেন এই দুই দল কংগ্রেস সদস্যদের সমর্থন দেয়। 

উলটো দিকে যেখানে সিপিএম বা তৃণমূল বোর্ড গঠন করতে পারছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে, সেখানে কংগ্রেস তাঁদের সমর্থন করবে।

‘‘আমরা পঞ্চায়েতে একটা অবস্থান নিয়েছি যে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আটকানোর জন্য, বিজেপি-কে আটকানোর জন্য যেখানে সিপিএম শক্তিশালী আছে বা তৃণমূল শক্তিশালী আছে, সেখানে আমাদের সহযোগিতা লাগলে আমরা সহযোগিতা করছি। তারাও আমাদের সহযোগিতা করছে,’’ বলেন মৌসম।

শুনে নিন কী বলছেন মৌসম বেনজির নুর ও তৃণমূল নেতা:

 

লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি-কে আটকাতে যে মহাজোটের বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে সর্বভারতীয় স্তরে, এটি তারই প্রতিফলন বলে দাবি করেন মালদহের এই সাংসদ। রাহুল গাঁধীর সেই ফর্মুলার কথা মাথায় রেখেই যে পশ্চিমবঙ্গে এই কাজ তাঁরা করতে চাইছেন, তা মৌসমের কথায় স্পষ্ট।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে একাই লড়বেন বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী সিপিএম-এর সঙ্গে জোটের কথা বললেও পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের কট্টর বিরোধিতার কথাই বলে এসেছেন। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

প্রদেশ সভাপতি মৌসমের এই ফর্মুলায় সায় দিয়েছেন কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘অধীরবাবু তো এই ব্যাপারে আমাকে কিছু জানাননি। কারণ এই চিঠি তো আমরা অনেক আগেই ব্লকে ব্লকে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। বিজেপি-কে আটকানোর জন্য তৃণমূল বা সিপিএম-কে সহযোগিতা করা যাবে।’’

গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতি স্তরে মহাজোটের মডেল কার্যকরী যদিও হয়, তবে মৌসমের কথা মতো লোকসভা ভোটের আগে এই জোট ফর্মুলা আকাশ-কুসুম কল্পনা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, সিপিএম কখনই মমতার সঙ্গে কোনও জোটে যাবে না। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বেরও এই ধরনের জোটে সায় নেই।

তৃণমূলের মালদহ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল সরকার স্বীকার করে নিয়েছেন, মৌসম নুর অনেক আগেই তাঁদের কাছে এই জোটের বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। তৃণমূল ইতিমধ্যেই যে কংগ্রেসকে সমর্থন করে বোর্ড গঠনে সাহায্য করেছে, সে কথাও জানিয়েছেন দুলাল।