প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ একে অপরকে চিনলেও প্রথম শারীরিক মিলন মানে নতুন করে চেনা। আর বিবাহের পরে দুই অর্ধপরিচিত স্ত্রী-পুরুষের মিলন তো আরও অস্বস্তির। বিশিষ্ট নারী রোগ চিকিৎসক অরুণকুমার মিত্রর মতে, এমন ক্ষেত্রে প্রথম রাতে মিলন না হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। কারণ, এতে আনন্দের থেকে ভীতি বা দুর্ভাবনা তৈরি হতে পারে। প্রথমে শরীর পরিচয়কে আরও নিবিড় করার পরেই মিলনে অগ্রসর হওয়া ‌উচিত। 

চিকিৎসক অরুণকুমার মিত্র তাঁর ‘কন্যা, জায়া ও জননী’ গ্রন্থে লিখেছেন— তাড়াহুড়ো করে বা ‌জোর করে সহবাস‌ের চেষ্টা করলে স্ত্রী দেহ ও মন অপ্রস্তুত থাকে এবং তার ফলে স্বামীর মনে নিরাশার সৃষ্টি হতে পারে, অন্য পক্ষে স্বামী যদি সহবাসে অপারগ হন তবে স্ত্রীর মনেও আশঙ্কা জাগতে পারে।

শুনতে আশ্চর্য লাগলেও অনেক ক্ষেত্রেই কোনও কোনও দম্পতির বিবাহের দু-তিন বছর পরেও স্বাভাবিক যৌনমিলন সম্ভবই হয় না। সহবাসের সময়ে ব্যথা লাগসে স্ত্রী মনে আতঙ্ক ও অনীহা তৈরি হয়। এর ফলে যৌনতা সম্পর্কে বীতরাগ সৃষ্টি হয়। অনেক মেয়েই লজ্জা ও ভয়ে মুখ খোলে না কিন্তু ভিতরে ভিতরে সমস্যা বাড়তে থাকে। অনেক স্বামী নিজের অপারগতা গোপন করতে স্ত্রীকেই দোষারোপ করেন। এতেও সমস্যা বাড়ে। 
কিন্তু কেন এমন হয়? চিকিৎসকের মতে, শারীরিক অস্বাভিকতা, অসুস্থতা বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াও দু’জনের যৌনজীবন সম্পর্কে অস্বচ্ছ ধারণা ও অজ্ঞানতার ফলেও বহু দম্পতি নিজেদের প্রকৃতি সমস্যা বু‌ঝতেই পারেন না।