চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবারেই আশিয়ান জয়ের ১৫ নম্বর বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন করা হয়েছে ইস্টবেঙ্গলে। লাল-হলুদ তাঁবুতে সুভাষ ভৌমিক, অ্যালভিটো সহ একাধিক ফুটবলার কেক কেটে সেই ঐতিহাসিক ট্রফি জয়ের স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। তবে সপ্তাহও পেরোল না। ইস্টবেঙ্গলে বিষাদ ফিরে এল আশিয়ানেরই হাত ধরে।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

আশিয়ান স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কালিয়া কুলুথঙ্গন মারা গেলেন জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার একটি ফুটবল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন তিনি। অনেক রাত পর্যন্ত চলে সেই অনুষ্ঠান। সেখান থেকে বাইকে ফেরার পথে নিজের গ্রাম থাঞ্জাভুরের কাছে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

চলতি শতকের শুরুর দিকের বছরগুলোয় কার্যত অপ্রতিরোধ্য ছিল ইস্টবেঙ্গল। সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়ে তুলুঙ্গা, দেবজিৎ, মাইক ওকোরো, অ্যালভিটো, ষষ্ঠী দুলে-দের সঙ্গেই একই ভাবে উচ্চারিত হতেন কুলুথঙ্গন। তামিল মিডফিল্ডারকে অনেক সময়ে কোচ সুভাষ ব্যবহার করতেন ‘সুপার সাব’ হিসেবে।

ময়দানে তিন প্রধানে খেললেও ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে তাঁর সাফল্য ছিল নজরকাড়া। আশিয়ান কাপজয়ী দলের সদস্য তো ছিলেনই। সেই সঙ্গে তিন বছর লাল-হলুদ তাঁবুতে থাকাকালীন সুভাষ ভোমিকের কোচিংয়েই জেতেন জোড়া জাতীয় লিগ। নিজের রাজ্য তামিলনাড়ুর হয়ে জিতেছেন সন্তোষ ট্রফিও।

মোহনবাগানের জার্সিতে খেলার সময়ে ব্যারেটো, মার্কোস পেরেরার সঙ্গে ‘কুলু’। — নিজস্ব চিত্র

ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে কেরিয়ার শুরু করার পরে দু’বছর করে খেলেছেন মহমেডান, মুম্বই এফসি-তে। মোহনবাগানে খেলেন করিম বেঞ্চারিফার কোচিংয়ে। মোহনবাগান-পর্বের পরে দু’বছর ভিভা কেরলে খেলার পরে শেষবার ভবানীপুরের জার্সিতে খেলেছিলেন। ওখানেই ইতি। প্রায় এক দশকের কাছাকাছি কলকাতায় খেলে যাওয়া ‘কুলু’ শহরের ফুটবলপ্রেমীদের ঘরের ছেলেই হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকাহত ময়দান।

ঘটনাচক্রে, শনিবারেই ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কর্তা স্বপন বলের প্রথম প্রয়াণ বার্ষিকী। জনপ্রিয় কর্তার মৃত্যুর সঙ্গে জুড়ে গেল জনপ্রিয় ফুটবলারের নামও! অদৃষ্টের পরিহাস একেই বলে।