মরশুম শেষ হলেও ইস্টবেঙ্গল ও মিনার্ভার মধ্যে দড়ি টানাটানি শেষ হয়েও হয়নি। পয়েন্টের জন্য নয় এবার ফুটবলারদের নিয়েই যুযুধান দুই ক্লাব।

গত মরশুমে আইজল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পাহাড়ি ক্লাবের ঘর ভেঙেছিল ইস্টবেঙ্গল। কোচ খালিদ জামিলকেও পাহাড় থেকে আনা হয়েছিল সমতলে। এবারও সেই নীতিতে মরশুম শেষ হওয়ার পরেই মিনার্ভার ফুটবলারদের নিয়ে আসতে সক্রিয় হয়েছেন লাল-হলুদ কর্তারা।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

শুক্রবার বিকেলে ই মেল-এর মাধ্যমে ইস্টবেঙ্গল জানিয়ে দিয়েছিল ২৮ জন ফুটবলারদের নাম। লাল-হলুদের দাবি, প্রত্যেকেই সই করে দিয়েছেন। সেই ২৮ জনের তালিকায় রাখা হয়েছে মিনার্ভার সুখদেব সিংহ, গগনদীপ বালি, কাশিম আইদারা, দীপক দেবরানি এবং রক্ষিত ডাগর। এখানেই সমস্যা। পাশাপাশি, শোনা যাচ্ছে তারকা স্ট্রাইকার চেঞ্চো-কেও নাকি নিতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গলের দাবি অনুযায়ী পাঁচ মিনার্ভা ফুটবলারই সই করে দিয়েছেন বলা হলেও তা মানতে রাজি নন মিনার্ভার কর্ণধার রঞ্জিৎ বাজাজ।

আইলিগ চ্যাম্পিয়ন জয়ী দলের কর্ণধার রঞ্জিৎ বাজাজের দাবি, রক্ষিত ডাগর বাদে কোনও ফুটবলারই এখনও পর্যন্ত সই করেননি ইস্টবেঙ্গলে। কাশিম আইদারা বাদে বাকি চারজনের সঙ্গে মিনার্ভা-র দু’বছরের চুক্তি রয়েছে। বাজাজের বক্তব্য, ‘‘ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের নিতেই পারে। তবে আমাদের ট্রান্সফার ফি দিয়ে ওদেরকে সই করাতে পারে। প্লেয়ার নিতে হলে ইস্টবেঙ্গলকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এখনও পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলের কেউই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’’

মিনার্ভা কর্তার দাবি অনুযায়ী, কাশিম আইদারা, দীপক দেবরানি, গগনদীপ বালি এবং সুখদেব সিংহের সঙ্গে এখনও চুক্তি চূড়ান্ত নয় ইস্টবেঙ্গলের। পালটা তিনি আরও বলছেন, ‘‘নিয়ম মেনেই সুখদেব সিংহের জন্য আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছে মোহনবাগান। ওরা সরকারিভাবে ওঁর নাম ঘোষণা করে দেওয়ার পর এখন যদি সুখদেব মোহনবাগানে সই করে, সেটা ভাল দেখাবে তো?’’

বাজাজের এমন বিস্ফোরণের পরে ইস্টবেঙ্গলের এক কর্তা পালটা বলেন, ‘‘বাজাজের এমন দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। যে দু’ বছরের চুক্তির কথা বাজাজ বলছেন, তা মোটেও ঠিক নয়।’’

দু’ পক্ষের বাদানুবাদে উত্তপ্ত ফুটবল-মহল। আইলিগের শেষলগ্নে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে গড়াপেটার মারাত্মক অভিযোগ এনেছিলেন মিনার্ভা-বস। পুরনো মরশুম এবং নতুন মরশুমের মাহেন্দ্রক্ষণে সেই দ্বৈরথের ট্র্যাডিশন-ই জারি থাকল। চুক্তি-জট কাটিয়ে দুই ক্লাবের আদৌ কি সন্ধি সম্ভব, সেটাই এখন দেখার।