তাঁকে সবাই ‘মিরাকেল ম্যান’ হিসেবেই চেনে। সামাজিক ভাবে এর কারণ একটা হলেও, তাঁর নিজস্ব গুণও কিছু কম নয়।

আর্মস্ট্রং পামে। বর্তমানে তাঁর বয়স মাত্র ৩৩ বছর। মণিপুর রাজ্যের তামেংলং জেলার বাসিন্দা। এবং সেখানকার জেমে উপজাতির মধ্যে তিনিই প্রথম আইএএস অফিসার। এ তো গেল তাঁর নিজস্ব কৃতিত্বের কথা। কিন্তু যে কারণে তাঁকে ‘মিরাকেল ম্যান’ বলা হয়, তা একেবারেই অন্য।

২০১২ সালের ফেসবুকের সাহায্যে ৪০ লাখ টাকা জমা করেন আর্মস্ট্রং পামে। সেই টাকা দিয়ে মণিপুর থেকে অসম ও নাগাল্যান্ডের মধ্যে রাস্তা তৈরি করেন তিনি। ১০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেই পথের নাম দেন ‘পিপলস রোড’। কারণ, তা তৈরি করতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় গ্রামবাসীরাই।

অনুন্নত পাহাড়ের মানুষের জন্য এমন ভাবনার জন্য বহু জায়গায় সম্মানিত হন আর্মস্ট্রং পামে। তাই আরও এক বার চেষ্টা করেন তাঁর জন্মস্থানের আরও একটু উন্নতির জন্য। সেই মর্মে একটি চিঠি লেখেন রিলায়েন্স জিও-র কর্ণধার, মুকেশ অম্বানিকে।


ছবি আর্মস্ট্রং পামের ফেসবুক পেজ থেকে

তামেংলং জেলার ডেপুটি কমিশনার আর্মস্ট্রং পামে, মুকেশ অম্বানিকে লেখেন, পাহাড়ের ওই জেলায় রিলায়েন্সের আরও মোবাইল টাওয়ার ও ইন্টারনেট পরিষেবা বাড়ালে, সেখানকার মানুষের খুব উপকার হবে। বর্তমানে, গ্রামবাসীদের এক-দু’দিন হেঁটে পৌঁছতে হয় জেলা সদরে। কারণ, সব রকম সরকারি কাজের জন্য সেখানেই যেতে হয়। 

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিলায়েন্স কর্ণধার সেই চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করেছেন। আর্মস্ট্রং পামে জানিয়েছেন, সংস্থার গুয়াহাটি ও মুম্বই অফিস থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করা হয় ওই কাজের জন্য। 

মিরাকেল ম্যান পামে তাঁর স্বপ্নের রাস্তা তৈরি করতে সময় নিয়েছিলেন প্রায় এক বছর। এখন অপেক্ষা, মোবাইল টাওয়ারের।

প্রসঙ্গত, আগামী ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ বিয়ে করবেন আর্মস্ট্রং পামে। পাত্রীর নাম ইয়েনি ইভলিন। ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিজেই তাই কয়েক দিন আগে পোস্ট করেছেন এক মজার ছবি (উপরের ছবিটি)। যেখানে ব্যাচেলার জীবনকে ‘গুডবাই’ জানিয়েছেন মিরাকেল ম্যান।