এক প্রকার জোর করেই যেন তাঁকে মিলানে পাঠানো হয়েছিল ফোটোশ্যুটের জন্য। ব্রিটেনের মডেলিং এজেন্সি তাঁকে বলে দিয়েছিল, মিলান পৌঁছে কোথায় যেতে হবে তাঁকে শ্যুটের জন্য। 

বছর পঁচিশের ক্লো আইলিং আদতে ব্রিটিশ মডেল। এজেন্সির কথা মতো, মিলান গিয়ে তিনি পৌঁছে যান শ্যুটিংয়ের জন্য আগে থেকে ঠিক করা অ্যাপার্টমেন্টে। কিন্তু, সেখানে পৌঁছেই ষড়যন্ত্রের শিকার হন ক্লো। 

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মিলানের আ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছনোর পরেই দু’জন লোক ক্লোকে অজ্ঞান করে বিবস্ত্র করে দেয়। এবং সেই অবস্থায়েই তাঁর ছবি তোলে তারা। তার পরে একটি ব্যাগের মধ্যে তাঁকে পুরে গাড়ির ডিকিতে করে নিয়ে যাওয়া হয় অনেক দূরে। 

মিলান শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে, বোর্গিয়াল নামে একটি জায়গায়, এক পরিত্যক্ত বাড়িতে রাখা হয় ক্লোকে। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছ’দিন তাঁকে রাখা হয় ওই বাড়িতে। 

এ দিকে, ক্লো-এর ব্রিটিশ এজেন্সি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে ৩ লক্ষ ডলার মুক্তিপণ চেয়ে ফোন পায় ক্লো-এর এজেন্সি। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা। কিন্তু, পুলিশ কিছু করার আগেই, ক্লোকে মুক্তি দেয় অপহরণকারী লুকাজ পায়েল হের্বা। এবং পুলিশের হাতে ধরাও পড়ে। 

কিন্তু এমন কী হল যে টাকা না পেয়েও অপহরণকারীরা ছেড়ে দিল ক্লোকে?

পুলিশসূত্রে জানা যায় যে, অপহরণকারী লুকাজ ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে একটি ‘ডার্ক ওয়েব’ সংস্থার সদস্য। এবং তাদের গ্রুপের নিয়মানুসারে, কোনও মা-কে তারা অপহরণ করে না। লুকাজ জানত না যে ক্লো-এর বছর দু’য়েকের সন্তান রয়েছে। 

তাই, ক্লোকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারী লুকাজ। তবে ছাড়ার আগে ৫ লক্ষ ডলার মুক্তিপণ চায় সে। এবং হুমকি দেয়, কাউকে এই ঘটনার কথা না বলতে।  

প্রসঙ্গত, মিলানের ব্রিটিশ কনসুলেটে ক্লোকে পৌঁছে দিতে যায় লুকাজ নিজেই। এবং সেখানেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে সে।