নোটবাতিলের ধাক্কা পোহাতে হয়েছিল গরিব থেকে ধনী সকল শ্রেণির মানুষকে। এবার নরেন্দ্র মোদী যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে চলেছেন বলে আগাম খবর, তাতে বেশি করে বিপদে পড়বেন মূলত মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা। সব থেকে বেশি বিপদ হবে ব্যবসায়ীদের। 

এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (সিএআইটি)-এর সেক্রেটারি জেনারেল প্রবীণ খান্ডেওয়ালা। গত ১৬ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কেন্দ্র খুব শীঘ্রই দেশে ‘চেক’ ব্যবহার বন্ধ করে দিতে পারে। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম খান্ডেওয়ালার বক্তব্য উল্লেখ করে জানিয়েছে— এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে, কেন্দ্র ডিজিটাল লেনদেন চাঙ্গা করতে ‘চেক-বুক’ ব্যাবহার বন্ধ করে দিতে পারে।

নোটবাতিলের পরে চেকবাতিল!

নোটবাতিলের ভবিষ্যৎ ফল ভাল-মন্দ যাই হোক না কেন, দেশের দরিদ্রতম মানুষ থেকে ধনী, গরিব শ্রমিক থেকে শিল্পপতি— সকলকে সমস্যায় ফেলেছে। এবার চেক বুক ব্যবহার বন্ধ করে দিলে তার চাপও পোহাতে হবে সব শ্রেণির মানুষকে। কারণ তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের লেনদেন অনেকটাই চলে চেকের মাধ্যমে। ৯৫ শতাংশ লেনদেন হয় নগদ বা চেকের মাধ্যমে। নোটবাতিলের পরে চেকের ব্যবহার অনেকটা হলেও বেড়েছে।

চেক ব্যবহার বন্ধ হলে ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও ছোট ব্যবসায়ীরা পাইকারি বিক্রেতা বা ডিলারের থেকে পণ্য নেয় পিডিসি (পোস্ট ডেটেড চেক)-র বিনিময়ে। ঘর-বাড়ি কেনা কিংবা ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রেও চেকের ব্যবহার চলে। 

নরেন্দ্র মোদী সরকার নগদ লেনদেন কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে। সেই সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে চাইছে। একই পথে হাঁটছে দেশের ব্যাঙ্কগুলিও। সব থেকে বড় রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্ক এসবিআই ইতিমধ্যেই চেকের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ চেক ব্যবহার কমানোর প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন তাই জল্পনার পাশাপাশি আশঙ্কা বাড়ছে যে, গুজরাত নির্বাচনের পরে কিংবা আগামী সাধারণ বাজেটের পরেই দেশে চেক ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পথে হাঁটতে পারে মোদী সরকার।