মাত্র দু’দিন আগেই মেল মারফত ঘোষণা করা হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের কোচ হতে চলেছেন আলেজান্দ্রো মেনেন্ডেজ গার্সিয়া। সঙ্গে একজন ফিজিক্যাল ট্রেনার ও অ্যানালিস্টের নাম-ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সমর্থকদের খুশির করে ক্লাব থেকে আরও জানানো হয়, নাইজেরিয়ান প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম নামি ফুটবলার মহম্মদ গাম্বোকেও আনা হচ্ছে।

সেই ঘোষণার পরে ৭২ ঘণ্টাও কাটেনি। এমন অবস্থায় টানাপোড়েন এবার মহম্মদ গাম্বোকে ঘিরে। ভিসা সমস্যায় যিনি এখনও আটকে নাইজেরিয়াতে। এখনও ভারতে আসার ভিসা জোগার করতে পারেননি ৩০ বছরের তারকা স্ট্রাইকার। এমন অবস্থায়, গাম্বোকে ছাড়াই বিকল্প স্ট্রাইকারের সন্ধান শুরু করে দিয়েছেন কর্তারা।

শুনুন গাম্বোর বক্তব্য...

বুধবার সুভাষ ভৌমিক সাংবাদিকদের পরোক্ষভাবে জানিয়ে দেন, গাম্বোকে পছন্দ নয়। ক্লাবের তরফে অবশ্য ভিসা সমস্যাকেই তুলে ধরা হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত ভিসা পাননি নাইজেরীয় স্ট্রাইকার। এক ক্লাব কর্তাও জানিয়ে দেন, গাম্বোর উপরে তারা এখনই আশা ছাড়ছেন না। এখনও ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে রাজি ক্লাব। এর মধ্যে ভিসার বন্দোবস্ত করতে না পারলে, গাম্বোর বিকল্প বেছে নেবেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই কয়েকজনের বায়ো ডেটা স্প্যানিশ কোচের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মহম্মদ গাম্বো। — সংগৃহীত

তবে নাইজেরিয়ার কানো থেকে স্বয়ং মহম্মদ গাম্বো প্রতিবেদককে জানিয়ে দেন, সোমবার ভিসা অফিসে গিয়েছিলেন তিনি। সেদিন ভিসা-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। মঙ্গল ও বুধবার ইদ উপলক্ষ্যে অফিস বন্ধ। দু’দিন-ই ভিসা অফিসে গিয়ে ফেরত আসতে হয়েছে গাম্বোকে। বৃহস্পতিবার ফের ভিসা অফিসে যাবেন তিনি। আপাতত এই বৃহস্পতিবার পর্যন্তই অপেক্ষা করতে রাজি ক্লাব। কিন্তু কেন এত তড়িঘড়ি? বলা হচ্ছে, নতুন স্ট্রাইকারকে ২ তারিখের ডার্বিতে খেলাতে মুখিয়ে ক্লাব কর্তারা। তাই তাড়াহুড়ো করেই কানো পিলার্সের স্ট্রাইকারকে আনতে উদগ্রীব তাঁরা।

গাম্বো যদিও ভারতে আসার জন্য ছটফট করছেন। ভিসা দ্রুত না মেলায় তিনি নিজেও হতাশ। নাইজেরিয়া কানো শহরে বেশ কিছুদিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে। অবিরাম বর্ষণের কারণেই ইন্টারনেট কানেকশন বেশ দুর্বল। সেই দুর্বল নেটওয়ার্ককে সঙ্গী করেই গাম্বো হোয়্যাটসঅ্যাপে এবেলা.ইন-কে জানান, ‘‘শুনেছি বহুদিন ইস্টবেঙ্গল আইলিগ জেতেনি। অধরা আইলিগ জেতাতে চাই ইস্টবেঙ্গল পরিবারকে।’’

তাঁর খেলা নিয়েই তৈরি হয়েছে একরাশ সংশয়। অথচ বিভ্রান্তির মেঘ কাটিয়েই গাম্বোর তরফে ভেসে আসে নতুন বার্তা, ‘‘ইস্টবেঙ্গল বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব। ক্লাবের তরফে প্রস্তাব আসতে দু’বার ভাবিনি। আমি আসছি। সমর্থকদের জানিয়ে দিন।’’