আবার কি রাষ্ট্রপতি পদে বাঙালি। প্রণব মুখোপাধ্যায় কি দ্বিতীয় বারের জন্য থেকে যাবেন রাইসিনা হিলের রাষ্ট্রপতি ভবনে। এমন প্রশ্ন অনেক আগে থেকেই রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এ বার সেই জল্পনা নতুন মাত্রা পেল। 

সামনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এখনও শাসক জোটের প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। বিরোধীরাও অথই জলে। এরই মধ্যে নতুন জল্পনা তৈরি করল রাইসিনা হিলের মধ্যাহ্নভোজ।

১৭ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। গণনা ২০ জুলাই। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সময় শুরু হয়ে গিয়েছে। শেষ তারিখ ২৮ জুন। কিন্তু এখনও শাসক জোটের প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। বিরোধীরাও অথই জলে। এরই মধ্যে নতুন জল্পনা তৈরি করল রাইসিনা হিলের মধ্যাহ্নভোজ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপি তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করায় নানা নাম নিয়ে চলছে জল্পনা। বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এক সময়ের কংগ্রেস নেতা তথা মন্ত্রী হলেও বর্তমান সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রণব মুখোপাধ্যায় সম্পর্কও অত্যন্ত মধুর। ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ফের বাঙালি রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করে চমক দিতে পারেন মোদী। চমক দেওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদীর সুনাম রয়েছে। রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা কংগ্রেসেরই পছন্দের মানুষকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পুণরায় বসিয়ে চমক দিতেই পারেন তিনি। এমনটাই মনে করছেন অনেকে। তাতে বিজেপি রাজনৈতিক লাভ পাবে বলেই তাঁদের ধারণা।

তবে এটাও সকলের জানা যে, প্রণবকে পছন্দ করলে একটাই বাধা আসতে পারে মোদীর কাছে। বিজেপির চালিকাশক্তি আরএসএস সেটা মেনে নেবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন স্বাভাবিক। এই প্রথমবার নিজেদের পছন্দের কোনও ব্যক্তিকে দেশের প্রধান পদে বসানোর সুযোগ কি হাতছাড়া করতে চাইবে নাগপুর? এমন প্রশ্নের মধ্যেই শুক্রবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রণবের আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত।

অতীতেও বেশ কয়েকবার প্রণব-ভাগবত বৈঠক হয়েছে। অনেকবারই রাষ্ট্রপতি ভবনে এসেছেন আরএসএস প্রধান। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নানা জল্পনার মধ্যে এই শীর্ষ বৈঠক স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা বাড়িয়েছে। যদিও রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্রে খবর, আগামী ২৪ জুলাই শেষ হচ্ছে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মেয়াদ। তার আগে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টদের মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন তিনি। এটা তারই অঙ্গ। মাস দেড়েক আগেই এটা ঠিক হয়। বিজেপি বা আরএসএস ও প্রণব-ভাগবত বৈঠককে সৌজন্যসাক্ষাৎ বলেই দাবি করছে। এর ভিতরে কোনও রাজনীতি নেই বলেই দাবি গেরুয়া শিবিরের। 

যদিও রাজধানীর রাজনীতির কারবারিরা এত সহজ করতে দেখতে চাইছেন না এই বৈঠককে। তাঁরা বলছেন, রাজনীতি হল সম্ভাবনার আঁতুড়ঘর। সেখানে কোনও সম্ভাবনাকেই ছোট করে দেখা ঠিক নয়। তাই যত দিন না বিজেপি তাঁদের পছন্দের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা না করছে, ততদিন আলোচনায় থাকবে এই বৈঠক।