ওদের প্রত্যেকের মুখে শিশুর সারল্য, হাসি। শিশুসুলভ আচরণ। কিন্তু ওদের মধ্যে অনেকেই সদ্য পা রেখেছে যৌবনে। কারও বয়স আবার চল্লিশেরও ঊর্ধ্বে। কিন্তু দেখে বোঝার উপায় নেই।

আসলে ওদের মানসিক গঠন আর পাঁচজন সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষের মতো নয়। চিকিৎসার পরিভাষায় বলা হয় ‘‌মেন্টালি রিটার্ডেট’‌। ওদের মধ্যেই কেউ খুব ভাল গান গায়, আবৃত্তি করে, অপূর্ব ছবি আঁকে, পড়াশোনায় তুখোড়। ওদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য ছড়িয়ে আছে অনেকগুলো হোম। তার মধ্যে অন্যতম বেহালার ‘‌ডিভাইন স্মাইল’‌। 

এই হোমের মানুষগুলোর সঙ্গে বড়দিনের আনন্দ ভাগ করে নিতে চলেছে মোহনবাগান ফ্যান ক্লাব ‘‌স্বপ্নের মোহন তরী’।

আগামী পঁচিশে ডিসেম্বর এই ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা ‘‌ডিভাইন স্মাইল’–এ কাটাবেন একটা পুরো দিন। ‘‌মেন্টালি রিটার্ডেট’ মানুষদের সঙ্গে নিয়ে কাটা হবে বড়দিনের কেক। ওদের হাতে তুলে দেওয়া হবে আঁকার সরঞ্জাম ও অন্যান্য উপহার। ওদের মনে আনন্দ ও খুশির তুফান তুলবেন ম্যাজিশিয়ান। সবাই মিলে হবে খাওয়াদাওয়া।

নিজস্ব চিত্র

শুধু কয়েক ঘণ্টায় আটকে থাকবে না ‘‌ডিভাইন স্মাইল’–এর সঙ্গে ‘‌স্বপ্নের মোহন তরী’‌র সম্পর্ক। সবুজ–মেরুন এই ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা ‘‌ডিভাইন স্মাইল’–এর একজনের সারা বছরের পড়ার খরচ বহন করবেন বলে জানিয়েছেন ফ্যান ক্লাবের সম্পাদক কেয়া বেরা ও সভাপতি সুদীপ্ত প্রকাশ নন্দে।

হোমের কচি কাঁচারা। — নিজস্ব চিত্র

জঙ্গলমহলের স্কুলের বাচ্চাদের সঙ্গে পুজোর আনন্দ ও বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের সঙ্গে দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার পর ‘‌স্বপ্নের মোহন তরী’‌র এই অনন্য প্রয়াসের নাম ‘‌দিশা’‌। শুধু প্রিয় দলের হয়ে গলা ফাটানোই নয়, নিজেদের সামাজিক দায়বদ্ধতার নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে ‘‌স্বপ্নের মোহন তরী’‌।