২০১৭ ছিল ব্লু হোয়েল-আতঙ্কের বছর। রাশিয়া থেকে পরিচালিত এই আত্মঘাতী খেলায় প্রাণ হারায় বেশ কিছু কিশোর-কিশোরী। পরে ধরা পড়ে এই কাণ্ডের পান্ডারা। দুম করেই বন্ধ হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত এই সুইসাইড গেম। ২০১৮-এ হোয়াটসঅ্যাপ-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় উঁকি দিচ্ছে আর এক অস্বস্তি— এক বিকৃত মুখের ছবির সঙ্গে সঙ্গে আসছে আত্মহত্যার প্ররোচনা। ব্লু হোয়েল-এর পরে নতুন আতঙ্ক ‘মোমো সুইসাইড চ্যালেঞ্জ’।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ‘মোমো’ একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের নাম। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ইউটিউব-এর মতো নেটওয়ার্কে তা দৃশ্যমান। মেক্সিকো ও সন্নিহিত দেশগুলিতে রীতেমতো আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এই গেম। প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ-এ এক বিকৃত মুখ ভেসে ওঠে তার পরে আসতে থাকে বিভিন্ন ধরনের কম্যান্ড। বিভিন্ন উপায়ে আত্মনির্যাতন থেকে ক্রমশ আত্মহত্যার দিকে খেলোয়াড়দের ঠেলে নিয়ে যায় এই গেম। বলাই বাহুল্য, এই কম্যান্ডগুলি আসতে থাকে কোনও ‘আননোন নাম্বার’ থেকে। জানানো হতে থাকে, কম্যান্ড অমান্য করলে তাদের নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হবে।

যারা ‘মোমো’-কে তাদের অ্যাকাউন্টে অ্যাড করছে, তারাই পাবে এই সব কম্যান্ড। সুতরাং, আগাম সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছে মেক্সিকোর টাবাস্কোর কম্পিউটার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট। স্পেনের গুয়ার্দিয়া সিভিল বা সে দেশের সিভিল গার্ট তাদের টুইটার হ্যান্ডলে এই নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে। আর্জেন্তিনায় এক ১২ বছর বয়সি বালিকার আত্মহত্যাকে মোমো সুইসাইড চ্যালেঞ্জের ফল বলে মনে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ‘বুয়েনস এয়ারেস টাইমস’। 

‘মোমো-আতঙ্ক’ ছড়াচ্ছে বিষাক্ত বাতাসের মতো। উপরের ইমেজ আপনার হোয়াটসঅ্যাপে ভেসে এলে সাবধান হোন আপনিও।