চিকিত্সক নেই। চতুর্থ শ্রেণির কর্মীও নেই। শুধু হাতে গোনা কয়েকজন নার্স নিয়েই উদ্বোধন হল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ এবং বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দু’টি ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে’র। 


গত শুক্রবার রেড রোডের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের এই দুই সরকারি মেডিক্যাল কলেজের নতুন পরিষেবার উদ্বোধন করেন। স্বাস্থ্যকর্তাদের একাংশের বক্তব্য, কোনও নতুন চিকিত্সক নিয়োগ ছাড়াই এত বড়মাপের পরিষেবা উদ্বোধন করা মোটেই ঠিক হয়নি। অবস্থার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন মা এবং শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি করা টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান ত্রিদিব বন্দ্যোপাধ্যায়ও। রবিবার তিনি বলেন, ‘‘চিকিত্সক কম আছে। অনেকেই কাজে যোগ দেবেন। ব্যবস্থা হচ্ছে। গ্রুপ-ডি ইন্টারভিউ হবে। নার্সের সংখ্যা ঠিক আছে।’’ কিন্তু এখন এগুলি চলবে কীভাবে? স্বাস্থ্য অধিকর্তা (শিক্ষা) সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা পরিষেবা বাড়াতে চাইছি। মেডিক্যাল অফিসার পোস্টিং দিচ্ছি। নার্স-কর্মী নেওয়া হবে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সিট বাড়াতে হবে। মোট কথা, সামলাতে হবে। ঠিক হয়ে যাবে সব।’’ 


স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে উদ্বোধন হওয়া ঝাঁ-চকচকে ন’তলা বিল্ডিংয়ে রয়েছে ১২৬টি বেড। রয়েছে ‘নিওনেটাল ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট’ (এনআইসিইউ), হাই ডিপেন্ড্যান্সি ইউনিটের (এইচডিইউ) মতো আধুনিক পরিষেবা। অভিজ্ঞ চিকিত্সক, প্রশিক্ষিত নার্সদের পাশাপাশি প্রয়োজন ৭৫ জন মেডিক্যাল অফিসারের। কিন্তু প্রাপ্তির ভাঁড়ার শূন্য। একই অবস্থা বাঁকুড়ারও। সেখানে আবার উদ্বোধন হয়েছে ১৭০টি বেডের। কয়েকদিনের মধ্যেই চালু হবে আরও ৮০টি বেড। কোথাও মেলেনি একজনও চিকিত্সক। নেই চতুর্থ শ্রেণির কর্মী কিংবা 
প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীও।

Copyright © 2018 Ebela.in - All rights reserved