শহরের সেতুগুলি দয়া করে সংস্কার করুন। আর যেন কোনও মায়ের কোল খালি না হয়।— মাঝেরহাট সেতু বিপর্যয়ের পরদিন, বুধবার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে আর্জি জানালেন মৃত সৌমেন বাগের বাবা-মা।

সন্তান হারানোর পর ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও কান্না থামছে না সৌমেনের মা অনিতার। মাঝেমধ্যেই জ্ঞান হারাচ্ছেন। স্বামী প্রদীপ দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে কার্যত থম মেরে গিয়েছেন তিনি। কথা বলছেন না। প্রতিবেশীরা আগলে রেখেছেন প্রবীণ দম্পতিকে। তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে সেতুগুলি সংস্কারের আর্জি জানালেন তাঁরা।

এদিন দুপুরে বেহালার শীলপাড়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, পড়শিদের ভিড়। সৌমেনের দেহ নিয়ে শ্মশানে গেলেন কয়েকশো প্রতিবেশী। প্রদীপ, অনিতা অবশ্য বাড়িতেই ছিলেন। অনিতার কথায়, ‘‘কী জন্য শ্মশানে যাব! আমার তরতাজা ছেলেটা মরে গেল। ওর শরীর পোড়ানো দেখতে পারব না।’’ মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর অনুরোধ, ‘‘দিদি, আপনি কলকাতার ব্রিজগুলো সংস্কার করুন। শুনলাম, যে ব্রিজটা ভেঙে আমরা ছেলে মরল, ৬ মাসে আগে সেটিকেও ফিট বলা হয়েছিল। এমন যেন আর না হয়। আর কোনও মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়।’’

সৌমেনের বাবা-মা পাইকপাড়া এলাকায় থাকেন। কিন্তু ৩ বছর বয়স থেকেই সৌমেন শীলপাড়ায় মামার বাড়িতেই বড় হয়েছেন। সৌমেনের মামি উত্তরা বাকুলির কথায়, ‘‘গত রবিবার ওর জন্মদিন ছিল। অসম্ভব পড়ুয়া ছেলে! ঘরভর্তি বই নিয়ে থাকত। গতকাল বই কিনতেই এক বন্ধুর সঙ্গে কলেজ স্ট্রিট গিয়েছিল।’’

স্থানীয় সূত্রের খবর, পাপাই রায় নামে ওই বন্ধুই বাইক চালাচ্ছিলেন। পিছনে বসে ছিলেন সৌমেন। পাপাইও গুরুতর আহত।

পরিবার সূত্রের খবর, সৌমেনের বাবা একটি ফলের দোকানে কাজ করেন। রোজগার যৎসামান্য। প্রতিবেশী রতন দাস বলেন, ‘‘সৌমেন সরকারি চাকরির চেষ্টা করছিল। পাশাপাশি, অনেক টিউশন পড়াত।’’


#MajerhatBridge #KolkataBridgeCollapse #MajerhatBridgeCollapse