মাসখানেক আগে প্রায় রাতারাতি বদলে যায় পরিণত ‘পটলকুমার’ বা পটেশ্বরীর মুখ। মৌসুমি দেবনাথের জায়গায় আনা হয় ঐশ্বর্য সেনকে। তখনই টেলিপাড়ায় কয়েকজনের মুখে শোনা গিয়েছিল যে টেলিভিশনে ডেবিউ করেই অত্যন্ত অহঙ্কারী হয়ে উঠেছেন তিনি এবং তাঁর বহুবিধ ট্যানট্রামের জন্যই তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে ধারাবাহিক থেকে। যদিও ‘পটলকুমার গানওয়ালা’-র ইউনিটের সূত্রে জানা যায় যে এই বিষয়টি একেবারেই সত্যি নয়। তবে সত্যিটা কী আসলে? ঠিক কী ঘটেছিল, সেই সময়ে? এবেলা ওয়েবসাইটকে সব কথা খুলে বললেন মৌসুমি দেবনাথ। 

তোমার সম্পর্কে শোনা গিয়েছে যে তোমার অনেক ট্যানট্রাম এবং সেই জন্যেই বাদ পড়েছিলে ‘পটলকুমার গানওয়ালা’ থেকে।

মৌসুমি: হ্যাঁ, আমি শুনেছি তবে এটা সত্যি নয়। যাঁরা আমাকে চেনেন তাঁরা এটা খুব ভাল করেই জানেন। আর তাই যদি হতো তাহলে এসভিএফ (শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস)-এর সঙ্গে আমার এখনও এত ভাল সম্পর্ক থাকত না। 

ছবি: ফেসবুক পেজ থেকে

হ্যাঁ, ‘পটলকুমার গানওয়ালা’ ইউনিট-এর অনেকেই কিন্তু বলেছে যে তুমি একেবারেই সেরকম নও। যখনই কলটাইম দেওয়া হতো তুমি ঠিক সময়ে রেডি থাকতে। 

মৌসুমি: তাই?? যাঁরা বলেছেন তাঁদের সত্যিই ধন্যবাদ। 

তাহলে এই ট্যানট্রামের গুঞ্জনটা উঠল কেন? তোমার কোনও শত্রু রয়েছে এই ইন্ডাস্ট্রিতে? 

মৌসুমি: আমি বলতে পারব না। আমি একেবারেই নতুন। ঠিক কেন এই কথাগুলো তখন বলা হল, কারা বললেন, আমার কোনও ধারণাই নেই। 

এবেলা.ইন-এ যখন এই ট্যানট্রামের বিষয় নিয়ে লেখা হয়, তুমি কি রেগে গিয়েছিলে আমাদের উপর? 

মৌসুমি: না, রেগে যাইনি কারণ সত্যিই কিন্তু ওখানে লেখা হয়নি যে আমার ট্যানট্রাম আছে। ওখানে লেখা ছিল যে গুজব শোনা যাচ্ছে। গুজব তো যা খুশি রটতে পারে। 

গ্রাফিক্স: অভিজিৎ বিশ্বাস

শুধু তাই নয়, এই ট্যানট্রামের বিষয়টি নিয়ে অন্য একজন অভিনেত্রীর উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছিল যে যাতে বাংলা টেলিভিশনে আরেকজন ‘...’ না তৈরি হয়, সেই জন্য প্রথমেই সম্ভাবনাটা নষ্ট করে দেওয়া হল। 

মৌসুমি: আমি আর কী বলব। 

ঠিক কী হয়েছিল তখন? ঐশ্বর্যকে যে আনা হচ্ছে তোমার জায়গায়, সেটা তুমি কবে জানতে পারলে? 

মৌসুমি: আমি কিছুই জানতাম না। শ্যুটিং করছিলাম, হঠাৎ আমাকে ডেকে নিয়ে এসে বলা হয় যে ওইদিনই আমার শেষ শ্যুটিং।

তার পর? 

মৌসুমি: আমি আসলে খুব ভেঙে পড়েছিলাম। কান্নাকাটি করছিলাম। তখন প্রোডাকশন থেকে আমার বাবাকে ফোন করে বলা হয় আমাকে এসে নিয়ে যেতে। 

কিন্তু এই রিপ্লেসমেন্টের কারণটা কী ছিল?

মৌসুমি: আমি সত্যিই জানি না কী কারণ। কিন্তু এটা জানি যে ‘পটলকুমার’ ইউনিটের অনেকেরই খারাপ লেগেছিল বিষয়টা। 

ছবি: ফেসবুক পেজ থেকে

বাবা-মা কী বললেন এই ঘটনার পরে? 

মৌসুমি: বাবা-মা সারাক্ষণই আমার পাশে ছিল। বাবা আমাকে বলেছিল, যেটা ঘটে গেছে সেই নিয়ে ভাবার কোনও দরকার নেই। আরও ভাল সুযোগ আসবে নিশ্চয়ই। আর আমি মোট ২০ দিন বাড়িতে বসেছিলাম। তার পরেই ‘সুরিন্দর ফিল্মস’ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। ‘রূপকথা’-র লিড চরিত্রের অফার আসে। ওটা তো এখন করছি আমি। 

আর পড়াশোনা? 

মৌসুমি: ইংলিশ অনার্স নিয়ে পড়ছি সিটি কলেজে, ফার্স্ট ইয়ারে। 

পড়াশোনা ছাড়া আর কী কী হবি তোমার?

মৌসুমি: আমি খুব মুভি দেখতে ভালবাসি। আর নাচ শিখেছি ছোটবেলা থেকে, মমতা শঙ্করের ‘উদয়ন’-এ। ক্রিয়েটিভ ডান্স। তবে তা ছাড়া আমার কনটেম্পোরারি ওয়েস্টার্ন খুব ভাল লাগে। বাড়িতে নিজে নিজেই প্র্যাকটিস করি। আর গান শুনতে ভালবাসি অবশ্যই, গান গাইতেও পারি অল্প স্বল্প।