কাঁচরাপাড়ার ৫৩, ঘটক রোড ঠিকানার ‘যুগলরেখা’ এলাকার সকলেরই পরিচিত। কিন্তু দোতলা সেই বাড়ির একতলার রাজনৈতিক কার্যালয়টি কার হাতে থাকবে, তা জানা নেই কারও। উত্তর নেই পরিবারের সদস্যদের কাছেও।

‘যুগলরেখা’র ওই কার্যালয় থেকেই এতদিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা তথা সদ্য বিজেপি’তে যোগদানকারী মুকুল রায়। তাঁর ছেলে তথা তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশুও বসেন সেই ঘরেই। কিন্তু তরুণ বিধায়ক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তৃণমূল ছাড়ছেন না। এই পরিস্থিতিতে কার্যালয় ভাগাভাগির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না শুভ্রাংশু। তাঁর কথায়, ‘‘এখনও কিছু ঠিক হয়নি। তবে দরকার পড়লে ভাগ করতে হবে। দেখা যাক!’’

মুকুল বিজেপি’তে যোগ দিলেও ওই ঘরে অবশ্য এখনও বদল আসেনি। সেখানে মুকুলের যে সমস্ত ছবি এবং স্মারক রয়েছে, তার প্রত্যেকটিতেই লেখা ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল নেতা’। বাবার স্মারকের গা ঘেঁষাঘেঁষি করে রয়েছে ছেলের একাধিক স্মারকও। রয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিও।

এসবের মধ্যেই স্পষ্ট উপস্থিতি তেরঙা ঘাসফুল প্রতীকের। বইয়ের তাকে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দের বিষয়ে লেখা শঙ্করের বই। অমর্ত্য সেনের ‘নীতি ও ন্যায্যতা’ উঁকি দিচ্ছে সেখানে। রয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে লেখা সুগত বসুর বইও। অফিসের কর্তার রিভলভিং চেয়ারের একপাশে কালীপ্রতিমার ছবি। অন্য পাশে দেওয়ালে ঝুলছে এলইডি টিভি।

একদা ঘরটি রায় পরিবারের ব্যবসার কাজে ব্যবহার হতো। পরে তা দলীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করা শুরু করেন মুকুল। কিন্তু বাবার বিজেপি’তে যোগদানের অর্থ তো তরুণ তৃণমূল বিধায়কের নিজের ঘরেই ‘চ্যালেঞ্জে’র মুখোমুখি হওয়া!

মুকুল-পুত্র হাপুন (শুভ্রাংশুর ডাকনাম) বলছেন, ‘‘নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে একাধিক রাজনৈতিক ফেজ দেখেছি। নতুন কিছু নয়।’’ ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকায় শুক্রবারের পর অবশ্য বাবার সঙ্গে কথা হয়নি হাপুনের।

তবে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের পদ্ম শিবিরে যোগদানে চিন্তার কিছু দেখছেন না বীজপুরের বিধায়ক। ‘আত্মবিশ্বাসী’ শুভ্রাংশু বলেন, ‘‘বাবা তো ২০১৫ কিংবা ২০১৬ সালের নির্বাচনে আমার হয়ে প্রচার করেননি। বীজপুর, কাঁচরাপাড়ার মানুষ তৃণমূলকেই সমর্থন করেছিলেন।’’