মুকুল রায়ের প্রভাব কাঁচরাপাড়া, বীজপুরে কতটা পড়বে তা নিয়ে ভাবনা রাজ্যের শাসকদলে। প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও তৃণমূল নেতৃত্বকে ভাবাচ্ছে, ব্যারাকপুরের ওই এলাকার অবাঙালি ভোট। ওই ভোট গেরুয়া শিবিরের দিকে যাবে কি না, তা নিয়ে মাথাব্যথা স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের।
  
কাঁচরাপাড়ার ভূমিপুত্র মুকুল শুক্রবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। তার ২৪ ঘণ্টা পরেও কাঁচরাপাড়ায় মুকুলের নামে বিজেপি’র কোনও ব্যানার বা ফ্লেক্স চোখে পড়েনি। কাঁচড়াপাড়া বা হালিশহরে কিংবা বীজপুরে প্রায় অমিল বিজেপি’র পতাকাও।

নির্দিষ্ট কোনও দলীয় কার্যালয় কার্যত নেই। প্রকাশ্যে ‘অনুপস্থিত’ বিজেপি যে একেবারেই দাগ কাটতে পারবে না, এমনটা মনে করেছেন না তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, অবাঙালি ভোটারের মধ্যে বিজেপি’র প্রভাব রয়েছে। মুকুলের নিজস্ব অনুগামীও আছে। তৃণমূলে বিক্ষুব্ধেরা রয়েছেন। তাই অনেক অঙ্কই বদলে যেতে পারে।

যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের প্রকাশ্য দাবি, মুকুলের প্রভাব থাকলে তো বীজপুরের বিধায়ক তথা তাঁর ছেলে শুভ্রাংশুকেই টানতে পারতেন তিনি। তৃণমূল পরিচালিত হালিশহরের পুর চেয়ারম্যান অংশুমান রায় শনিবার বলেন, ‘‘বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ই বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন, আছেন, থাকবেন। আমরাও সেকথাই বলছি।’’

বাবার দলবদল নিয়ে শুভ্রাংশু বলছেন, ‘‘কোনও প্রভাবই পড়বে না। উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিছু লোক থাকেই, তাঁরা কী করবে, বলতে পারব না।’’ হালিশহরের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি প্রবীর সরকারের দাবি, ‘‘কোনও প্রভাব পড়বে না।’’

আগামী বুধবার নোটবাতিলের বিরুদ্ধে রাজ্য জুড়েই তৃণমূলের কর্মসূচি রয়েছে। তা নিয়ে এদিন স্থানীয় নেতৃত্ব, কাউন্সিলরের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভ্রাংশু।

বিজেপি’র ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অরুণ ব্রহ্ম জানিয়েছেন, কয়েকদিনের মধ্যেই মুকুলকে স্বাগত জানিয়ে ফ্লেক্স পড়তে পারে এলাকায়। কাঁচরাপাড়়ার যুব বিজেপি নেতা মাণিকলাল মিস্ত্রির বক্তব্য, ‘‘দল নির্দেশ দিলে করা হবে।’’ আগামী সোমবার বিজেপি’র রাজ্য দফতরে যাওয়ার কথা মুকুলের। সেখানে তাঁর জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থাও হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।