জল সব সময়েই নীচের দিকে গড়ায়— এমনটাই তো হয়ে আসছে পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে। কিন্তু সেই সৃষ্টির নিয়মকেই এখানে চ্যালেঞ্জ জানায় প্রকৃতি। মহারাষ্ট্রের ওয়েস্টার্ন ঘাটে রয়েছে এমনই এক জলপ্রপাত যার জল পাহাড় থেকে নীচে পড়ে না। 

অবাক হওয়ার মতোই ব্যাপার। কিন্তু এটাই বাস্তব! কারণটা যদিও খুব সাধারণ। জলপ্রপাতের উল্টোদিকে কোনও পাহাড় নেই। সেই কারণে উল্টোদিক থেকে যে বাতাস হয় তার বেগ এতটাই থাকে যে তা জলপ্রপাতের ধারাকে ধাক্কা মেরে উপরের দিকে উঠিয়ে দেয়। 


নানেঘাটের বৌদ্ধ গুহা। ছবি: উইকিপিডিয়া

পুনের জুন্নার অঞ্চলের নানেঘাট এক সময় বাণিজ্য পথ ছিল বলে জানা যায়। ভারতের কোঙ্কন উপকূল ও মালভূমের মধ্যে সংযোগ পথ ছিল নানেঘাটের পর্বতাঞ্চল। মূলত ব্যবসায়ীদের থেকে টোল আদায় করা হতো এই পথে। যে কারণে নাম হয় নানেঘাট (‘নানে’ শব্দের অর্থ কয়েন)। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

খ্রিস্টপূর্ব ২০০ সাল নাগাদ এই অঞ্চলে শাসন করত সাতবাহনরা। কিন্তু পরবর্তীকালে এই অঞ্চল ঢেকে যায় ঘন জঙ্গলে। ১৮২৮ সালে, উইলিয়ম সাইকস নামে জনৈক ইংরেজ এই অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। এবং হঠাৎ করেই আবিষ্কার করেন একটি গুহা। গুহার দু’দিকের দেওয়ালে ব্রাহ্মী লিপিতে খোদাইও দেখা যায়। পরবর্তীকালে জানা যায়, এই অঞ্চলে বেশ কিছু এমন গুহা রয়েছে যা ব্যবহার করত বৌদ্ধ সাধকরা। এবং ওই লিপিতে উল্লেখ রয়েছে সাতবাহন বংশের রাজা, সাতকর্ণীর স্ত্রী নয়নিকার। 


গুহার  দেওয়ালে ব্রাহ্মী লিপি। ছবি: উইকিপিডিয়া

প্রকৃতির উলটপুরাণের পাশাপাশি ইতিহাস দেখতে যে ভাল লাগবে তা বলাই বাহুল্য। নানেঘাটের ট্রেকিং রুটের প্রায় শুরু পর্যন্ত পৌঁছনো যায় গাড়িতেই। মুম্বই থেকে বেশ কিছু ট্রেকিং গ্রুপও নিয়ে যায় এই পথে।