এক দেশ, এক কর। ২০১৭ সালের ১ জুলাই ভারতে চালু হয় জিএসটি। শনিবার এক বছর পূর্ণ করে রবিতে দেশে দ্বিতীয় বছরে পা রাখল জিএসটি জমানা। আর ঠিক সেই সময়েই বড় ঘোষণার ইঙ্গিত দিল কেন্দ্র।

কেন্দ্র খুব শীঘ্রই বহু পণ্য ও পরিষেবার উপরে জিএসটি-র হার কমিয়ে দিতে পারে। আর তার কারণ, কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটি বাবদ যে আয় করবে বলে আশা করেছিল তার থেকে বেশি আয় হয়েছে।

এক বছরে ধরা হয়েছিল কেন্দ্রের জিএসটি বাবদ আয় হবে ১২ লাখ কোটি টাকা। কিন্তু এখনই যা হিসেব তাতে এক লাখ কোটি টাকা বেশি আয় হতে পারে। আর তাতেই কর কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। 

মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‘যদি রাজস্ব আয় বাড়ে তবে সরকার চায় তার সুবিধা সাধারণ মানুষ পাক। আর সেই নীতি অনুসারে বেশ কিছু ক্ষেত্রে করের পরিমাণ কমানো হতে পারে।’’

জিএসটি জমানার প্রথম আর্থিক বছরে ধরা হয়েছিল কেন্দ্রের তহবিলে আসবে ১২ লাখ কোটি টাকা। কিন্তু মনে করা হচ্ছে ই-ওয়ে বিলের হিসেব হাতে এলে দেখা যাবে লক্ষ্য ছাপিয়ে অতিরিক্ত ১ লাখ কোটি টাকা আয় হয়েছে। আর তখনই বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্র। 

ইতিমধ্যেই বিরোধী দলগুলি জিএসটি নীতি জটিল বলে মন্তব্য করেছে। অনেকে সব পণ্য ও পরিষেবার একই হারে করের দাবি তুলেছেন। সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে রবিবার এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছে, ‘‘এটা সম্ভব নয়, দুধ আর মার্সিডিজের উপরে একই হারে কর হতে পারে না।’’

এখন বিলাসবহুল বিভিন্ন পণ্যে ২৮ শতাংশ কর নেওয়া হয়। আগেই অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এমন ইঙ্গিত করেছিলেন যে, সরকারের আয় বাড়লে এই হার কমানো হতে পারে। এবার সেই একই ইঙ্গিত করলেন পীযূষ গয়াল।

লোকসভা নির্বাচন আর দূরে নয়। ২০১৯ সালের গোড়ার দিকেই হতে পারে সাধারণ নির্বাচন। আর তার আগে বড় চমক দিতেই পারে নরেন্দ্র মোদী সরকার। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে চাপে থাকা কেন্দ্র এবার এই সুযোগ কাজে লাগাতেই পারে। সুতরাং, সাধারণ মানুষের একটু হলেও ‘আচ্ছে দিন’ আসতেই পারে।