কাঠুয়া-উন্নাও কাণ্ডের ক্ষোভ সামলাতে ধর্ষণের বিভিন্ন আইনে পরিবর্তন নিয়ে এল মোদী সরকার। অর্ডিন্যান্স জারি করেই চালু হল এই পরিবর্তিত আইন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যাবিনেট বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্রিমিনাল ল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স ২০১৮ পাশ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এই অর্ডিন্যান্স এবার রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

ভারতীয় দণ্ডবিধি, সিআরপিসি, এভিডেন্স অ্যাক্ট ও পকসো আইনে পরিবর্তনগুলি আনা হয়েছে।

একবার দেখে নেওয়া যাক কী কী পরিবর্তন আসছে।

শাস্তির ক্ষেত্রে:—

• কোনও মহিলাকে ধর্ষণ করলে সর্বনিম্ন শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আগে এই শাস্তি ছিল ৭ থেকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।

• ১৬ বছরের নীচের কোনও মেয়েকে ধর্ষণ করলে সর্বনিম্ন শাস্তি হবে ২০ বছরের জেল। সর্বোচ্চ শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত দোষী ব্যক্তিকে জেলেই কাটাতে হবে।

• ১৬ বছরের নীচে কোনও নাবালিকাকে গণধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে।

• ১২ বছরের নীচের কোনও মেয়েকে ধর্ষণ করলে সর্বনিম্ন ২০ বছরের জেল থেকে শুরু করে সারা জীবনের জন্য জেল বা মৃত্যুদণ্ড হবে।

• ১২ বছর বা তার কম বয়সী মেয়েকে গণধর্ষণ করলে সারা জীবনের জন্য জেল বা মৃত্যুদণ্ডই হবে দোষীর শাস্তি।

ধর্ষণের মামলায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য—

• কোনও ধর্ষণের মামলার তদন্ত আবশ্যিক ভাবে ২ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে।

• সব ধরণের ধর্ষণের মামলার বিচারপ্রক্রিয়াও অবশ্যই ২ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে।

• উচ্চতর আদালতে ৬ মাসের মধ্যে ধর্ষণের মামলার আবেদনের শুনানি করে তার নিষ্পত্তি করতে হবে।

জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রেও বদল—

• ১৬ বছর বা তার কম বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ বা গণধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হলে তাকে আগাম জামিন দেওয়া যাবে না।

• জামিনের আবেদনের শুনানির ক্ষেত্রে সরকারি উকিল এবং আক্রান্তের প্রতিনিধিকে অন্তত ১৫ দিনের নোটিশ দিতে হবে আদালতকে।

যাতে ধর্ষণের মামলার শুনানি দ্রুত করা যায়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করছে সরকার:—

• নতুন ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তৈরি করা হবে রাজ্য ও হাইকোর্টগুলির সঙ্গে কথা বলে।

• সরকারি আইনজীবীদের জন্য আরও নতুন পদ তৈরি করা হবে। 

• এবার থেকে প্রতিটি থানা ও হাসপাতালে বিশেষ ফরেন্সিক কিট থাকবে।

• সময়সীমার মধ্যে ধর্ষণের মামলার তদন্ত শেষ করার জন্য আরও লোক নিয়োগ করা হবে।

• বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষ ফরেন্সিক ল্যাবের ব্যবস্থা থাকবে।

• তিন মাসের মধ্যে এই ব্যবস্থাগুলি করার জন্য একটি প্রকল্পেরও ঘোষণা হবে।

• জাতীয় ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো যৌন হেনস্থাকারীদের একটি ডেটাবেস তৈরি করবে।

• এই তথ্য সব রাজ্যগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে যাতে যৌন হেনস্থাকারীদের উপর নজরদারি রাখা যায়।

• সব জেলায় ধর্ষিতাদের সাহায্য করার জন্য একটি করে নির্দিষ্ট কেন্দ্র খোলা হবে।

Copyright © 2018 Ebela.in - All rights reserved