লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি পথে নামাতে মরিয়া মোদী সরকার। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎচালিত গাড়ি চালানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর দাবি, চলতি সপ্তাহেই এ ব্যাপারে সরকার পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ‘গ্লোবাল ট্রান্সপোর্ট সামিট’-এ এ ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্র উল্লেখ করে পিটিআই দাবি করেছে, নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয় পর্বের পরিকল্পনা তথা কোন পথে এই প্রকল্প কেন্দ্র বাস্তবায়িত করতে চায়, গাড়িতে চার্জ দেওয়ার জন্য সরকারের পরিকাঠামো পরিকল্পনা কী এবং কবে কোনটা হবে সেই সংক্রান্ত দিনক্ষণও ঘোষণা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় সরকারের এক কর্তার বক্তব্য তুলে ধরে পিটিআই জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে ৫,৫০০ কোটি টাকার ভর্তুকি ছাড়াও ই-রিক্সার পারমিট সংক্রান্ত ঘোষণাও করতে পারেন মোদী। এখন ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ১৮ বছর বয়স লাগে। ই-স্কুটারের ক্ষেত্রে সেই সীমা ১৬ বছর করার ঘোষণাও করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকী, ই-গাড়ির ক্ষেত্রে টোল ট্যাক্স তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তও জানাতে পারেন। সহজ করতে পারেন ই-গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম।

নীতি আয়োগের উদ্যোগে আগামী ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর ‘গ্লোবাল ট্রান্সপোর্ট সামিট’-এর আয়োজন করেছে। সেখানে ইলেক্ট্রিক মোবিলিটি ক্ষেত্রের বিভিন্ন সংস্থাও হাজির থাকবে। ইতিমধ্যেই নীতি আয়োগের কাছে দেশের বেশ কিছু রাজ্য এই ই-মোবিলিটি নিয়ে পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব কুমার সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, ‘‘এই সামিটের মাধ্যমে দেশে ইলেক্ট্রিক মোবিলিটি চালুতে গতি আনতে চাই। আর তাতে শুধু কেন্দ্রীয় সরকার নয়, বিভিন্ন রাজ্য সরকারও উদ্যোগী হোক।’’

উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদী সরকার এই ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য গত কয়েক বছর ধরেই বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে চলেছে। ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ ছিল ১৪৪ কোটি টাকা। সেটা গত আর্থিক বছরে বেড়ে হয় ২৩৫ কোটি টাকা। চলতি আর্থিক বছরের জন্য ইতিমধ্যেই ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। 

এখন পৃথিবীর সব থেক দূষিত ২০টি শহরের মধ্যে ১৪টিই ভারতে। এর মধ্যে দিল্লি, বারাণসী, কানপুর, ফরিদাবাদ, লখনউ, গয়া, আগ্রা, জয়পুর, পাতিয়ালা, যোধপুরের মতো শহর রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসার পরেই দেশে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি চালানোর উপরে জোর দেওয়ার পরিকল্পনা নেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

দেশের সর্বত্র বিদ্যুৎচালিত গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করাই এখন বড় লক্ষ্য কেন্দ্রের। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা এনটিপিসি দেশের প্রথম ইলেক্ট্রিক ভেহিকেলস চার্জিং সেন্টার চালু করেছে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে।