ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে আরও একটা স্মরণীয় দিন হয়ে থাকল শুক্রবার ২০ জুলাই, ২০১৭। লোকসভা চলাকালীন কোনও বিরোধী নেতা এসে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরছেন এমন দৃশ্য অতীতে দেখেনি সংসদের নিম্নকক্ষ।

তেলুগু দেশম পার্টির আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে এদিন দিনভর বিতর্ক চলে লোকসভায়। সংখ্যার বিচারে আগে থেকেই বিজেপি নিশ্চিন্ত ছিল। তা সত্বেও বিতর্ক চলে। আর সেই বিতর্কের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জড়িয়ে ধরেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। এর পর নিজের জবাবি ভাষণে নাম না করেই রাহুলকে আক্রমণ করলেন মোদী।

দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা অধিবেশন চলার পরে রাত সওয়া ন’টা নাগাদ বক্তব্য রাখতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। আর উঠেই তিনি আক্রমণ করেন কংগ্রেস সভাপতিকে। তবে একটি বারের জন্যও রাহুল গাঁধীর নাম নেননি নরেন্দ্র মোদী।

তিনি এদিন বলেন, ‘‘অনেকে বলেছিলেন ভূমিকম্প হবে। অথচ অনাস্থা প্রস্তাবে জয় পরাজয়ের আগেই একজন উৎসাহিত হয়ে পড়েন। অহঙ্কার এই ধরনের প্রবৃত্তির জন্ম দেয়। একজন আমার কাছে এসে বলে ওঠো ওঠো। বোধহয় প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে বড় তাড়াহুড়ো পড়ে গিয়েছে।’’

রাহুল গাঁধীকে এই ভাবে কটাক্ষ করলেও একটি বারের জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি প্রধানমন্ত্রী। তবে নাম না করে রাহুলের উদ্দেশে বলেন, ‘‘এত তাড়াহুড়ো কীসের! বোধহয় প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে বড্ড তাড়াহুড়ো পড়ে গিয়েছে। আরও অনেকেই ওই চেয়ারে বসতে চায়। কিন্তু গণতন্ত্রে কেউ কাউকে সরিয়ে দিতে পারে না। একমাত্র জনগণ পারে।’’

মোদী নিজের সরকারের কাজের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘‘ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি করছি না, জনগণের জন্য কাজ করেছি। ৩০ বছর পরে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এসেছি।’’

টিডিপির আনা অনাস্থা প্রস্তবের গুরুত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদীর বক্তব্যের মাঝে টিডিপি বারবার হট্টগোল করলেও বক্তৃতা চালিয়ে যান মোদী। তিনি বলেন, ‘‘প্রস্তুতি ছাড়াই কেন আনা হল অনাস্থা প্রস্তাব। নেতিবাচক রাজনীতি করছে বিরোধীরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবুও অনাস্থা প্রস্তাব।’’

এর পরেও প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের সাফল্যের খতিয়ান দিয়ে যান সংসদে। মোদী বলেন, ‘‘ভারত বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি। কালো টাকার বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। অনেকের অসুবিধা হচ্ছে বুঝতে পারছি।’’

শুধু কংগ্রেস নয়, সব বিরোদী দলকেই এদিন আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে সব শক্তিকে এক করার চেষ্টা হচ্ছে। বিরোধীদের একের উপরে অন্যের বিশ্বাস নেই। একটা বড় অংশ আবার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন।’’