সৌরজগতের গ্রহাণুবলয়ের মধ্যে সর্ববৃহৎ সে। তাকে পুরোপুরি গ্রহই বলা যায়। সে দিক থেকে দেখলে সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ সিরেস-কে নিয়ে মহাকাশ-গবেষকদের কৌতূহল কম নয়। ১৭৭২ সালে জার্মান জ্যোতির্বিদ জোহান এলার্ট বোডে মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মধ্যে কোনও গ্রহ অনাবিস্কৃত থেকে গিয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তার আগে কেপলারও একই ভাবনা ব্যক্ত করেছিলেন ১৫৯৬ সালে। ১৮০১ সালে ইতালির পালের্মো বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানিী গুয়েপ পিয়াজ্জি সিরেস-কে ‘বামন গ্রহ’ বলে ঘোষণা করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে নাসা এই ‘বামন গ্রহ’ নিয়ে প্রদান করল বেশ কিছু তথ্য। নাসা-র প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সিরেস-এর শরীরে ১৩০টি উজ্জ্বল এলাকা দেখা যায়। ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর সোলার সিস্টেম রিসার্চের গবেষণা জানচ্ছে, এই ঔজ্জ্বল্য ‘হেক্সাহাইড্রাইট’ নামের এক প্রকার ম্যাগনেসিয়াম সালফেটের কারণে। এ ধরণের যৌগ পৃথিবীর এপসোম সল্টের সঙ্গে তুলনীয়। এ থেকে বিজ্ঞানীদের অনুমান, সিরেসের উপরিভাগে লবণাক্ত জল থেকে জাত বরফের অস্তিত্ত্ব রয়েছে। কিন্তু তেমন কোনও বরফের সন্ধান নাসা-সূত্রে প্রাপ্ত হাই-রেজলিউশন ডেটা দেয়নি।

তা হলে কী রয়েছে সিরেস-এর পৃষ্ঠদেশে? উত্তর খুঁজতে ‘ডন সায়েন্স টিম’ উদ্যোগ নেয়। তাদের মতে, সিরেস-এর অ্যামোনিয়া-ঋদ্ধ মৃত্তিকার কারণেই এই ঔজ্জ্বল্য। এই ‘বামন গ্রহ’-র উত্তাপ খুবই বেশি। সে কারণে, অ্যামোনিয়া-বরফ দ্রুত উদ্বায়িত হয়। অ্যামোনিয়ার এই অবস্থিতি থেকে অনুমান হয়, সিরেস-এর আদি নিবাস মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মধ্যবর্তী স্থানে ছিল না। ‘বামন গ্রহ’ সম্ভবত অন্য কোনও সৌরমণ্ডলে জন্ম নেয়। আবার অন্য মত অনুযায়ী, বহির্সৌরজগতে নেপচুনের কক্ষপথের কাছে যদি সিরে-এর জন্ম হয়, তা হলে এমনটা হতেই পারে। কারণ, সেখানে নাইট্রোজেন-বরফের টিকে থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

দেখুন সিরেস-এর আবর্তনের ভিডিও—