রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদের এক জোট করতে অনেকটাই সফল হয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী। জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগে হবে রাইসিনা হিলের পরবর্তী বাসিন্দা নির্বাচন। তাকে কেন্দ্র করে এখন চলছে দফায় দফায় বৈঠক। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুপ্রিমোদের সঙ্গে কথা বলছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আদৌ কি তার কোনও গুরুত্ব রয়েছে? বিরোধীদের উপরে কতটা নির্ভর টিম মোদী?

ভারতে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য যে নিয়ম তাতে ভোট দানের অধিকার দেশের সমস্ত সাংসদ ও বিধায়কের। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে দেশে মোট সাংসদ সংখ্যা ৭৭৬ আর বিধায়ক সংখ্যা ৪,১০২। প্রতিটি ভোটের আবার আলাদা আলাদা মূল্য রয়েছে। ১৯৭৪ সালের নির্বাচন আইন অনুসারে যে হিসেব তাতে প্রত্যেক সাংসদের ভোটের মূল্য ৭০৮। তবে বিধায়কদের ভোটের মূল্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যের জনসংখ্যা অনুসারে ঠিক হয়। সবথেকে বেশি মূল্যবান উত্তরপ্রদেশের একজন বিধায়কের ভোট। প্রতিটির মূল্য ২০৮। অন্য দিকে সিকিমে বিধায়কদের একটি ভোটের মূল্য ৭। দেশের সব থেকে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে বিপুল ভোটে জয় বিজেপিকে যে শক্তি এনে দিয়েছে তাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও বিজেপি তথা এনডিএ বিরোধীদের থেকে অনেকটা এগিয়ে।

আরও পড়ুন— 

মোদির ভাষণে উঠে এল কিংবদন্তি ক্রিকেটারের নাম, বিস্মিত সেই ক্রিকেটারও

দেশের মহাসেতুর নামকরণে চমক মোদীর, জানালেন সেতু তৈরিতে দেরির আসল কারণ

রাষ্ট্রপতি পদের জন্য লড়াই হলে দেশের সব সাংসদ ও বিধায়ক মিলিয়ে যে ভোটমূল্য তার অর্ধেক যাঁর পক্ষে তিনিই যাবেন রাইসিনা হিলে রাষ্ট্রপতি ভবনে। মোট ভোটমূল্য ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮২। এর মধ্যে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪২ মূল্যের ভোট প্রয়োজন জয়ের জন্য। আর নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন জোটের হাতে রয়েছে ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮৩ মূল্যের ভোট। ঘাটতি রয়েছে মাত্র ১১ হাজার ৭৫৯।

অন্য দিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের হাতে রয়েছে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৯ ভোটমূল্য। মোট ভোটমূল্যের মধ্যে এনডিএ-র কাছে রয়েছে ৪৮.৬৪ শতাংশ এবং ইউপিএ-র কাছে ৩৫.৪৭ শতাংশ।

এখানে রয়েছে আরও একটি অঙ্ক। দেশে এখন ছ’টি মুখ্য রাজনৈতিক দল রয়েছে যারা ঘোষিত ভাবে কংগ্রেস ও বিজেপি দুই শিবিরের থেকেই সমান দূরত্ব রেখে চলে। কোনও শিবিরেই নাম না লেখানো এই দলগুলি হল তামিলনাড়ুর এআইডিএমকে, ওড়িশার বিজেডি, তেলেঙ্গানার টিআরএস অন্ধপ্রদেশের ওয়াইএসআরসিপি, দিল্লির আপ এবং হরিয়ানার আইএনএলডি। এই ছয় দলের মিলিত ভোটমূল্য ১৩.০৬ শতাংশ। এই সব ভোটও যদি ইউপিএ শিবিরের দিকে যায় তবেও তা দাঁড়াবে ৪৮.৫৩ শতাংশ। তাতেও ৪৮.৬৪ শতাংশ ভোটমূল্য নিয়ে কিছুটা এগিয়ে এনডিএ।

এই সব দলের হিসেব ছাড়াও উত্তরপূর্বাঞ্চল-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য কিছু আঞ্চলিক দল রয়েছে যাদের হাতে ৩ শতাংশের আশপাশে ভোট রয়েছে। তবে ইতিহাস বলছে এই ভোট সাধারণত জয়ীর দিকেই যায়। সুতরাং বিরোধীরা যতই ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ের স্লোগান তুলুন না কেন মোদী বাহিনী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বস্তিজনক জায়গাতেই রয়েছে। কোনও শিবিরে না থাকা ওড়িশার বিজেডি বা তামিলনাড়ুর এআইডিএমকের সমর্থন পেলেই হাসতে হাসতে জয়।