এবার মাত্র দশ ঘণ্টাতেই কলকাতা থেকে আগরতলা পৌঁছে যাওয়া যাবে। তাও আবার ট্রেনে চড়ে আরামদায়ক সফর। সবকিছু ঠিকঠাক চললে পড়শি দুই রাজ্যের মধ্যে যাতায়াতের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বাংলাদেশ হয়ে ত্রিপুরা যাওয়ার নির্মীয়মাণ রেলপথ। সংবাদসংস্থার খবরে এমনই দাবি করা হয়েছে।

বর্তমানে আগরতলা-কলকাতা যে রেল যোগাযোগ রয়েছে, তাতে ট্রেনে চড়ে কলকাতা থেকে গুয়াহাটি হয়ে আগরতলা পৌঁছতে তিরিশ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। রেলপথে এই দূরত্ব প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

জানা গিয়েছে, আগরতলা থেকে বাংলাদেশের আখাউরা পর্যন্ত মাত্র ১২.৩ কিলোমিটার নতুন রেল লাইন নির্মাণ হয়ে গেলেই ঢাকা-চট্টগ্রাম-আখাউরা হয়ে সরাসরি আগরতলায় পৌঁছে যাওয়া যাবে। সময় লাগবে দশ ঘণ্টার কাছাকাছি। বর্তমানের ১৬০০ কিলোমিটারের বদলে কলকাতা থেকে আগরতলার দূরত্ব কমে দাঁড়াবে মাত্র ৫৫০ কিলোমিটার।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল-বেনাপোল, গেঁদে-দর্শনা, রাধিকাপুর-বিরল এবং সিংহবাদ-রোহনপুরের মধ্যে দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ রয়েছে। এর মধ্যে পেট্রাপোল এবং গেঁদে সীমান্ত দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। নতুন এই রেল লাইন চালু হলে ভারত এবং বাংলাদেশ, উভয় দিকেই যাত্রীদের নিরাপত্তাজনিত পরীক্ষা এবং তল্লাশি হবে বলে জানিয়েছেন রেল কর্তারা।

এখন ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং আখাউরার মধ্যে রেল যোগাযোগ রয়েছে। আগরতলা থেকে আখাউরা পর্যন্ত রেল পথ তৈরি হয়ে গেলেই এই পথে কলকাতার সঙ্গে জুড়ে যাবে আগরতলা। প্রায় একহাজার কোটি টাকা খরচ করে নতুন এই রেলপথ তৈরি করছে ভারত সরকার। নতুন এই রেলপথ তৈরি হয়ে গেলে মিজোরামের বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন বলে দাবি করছেন রেলকর্তারা, কারণ আগরতলা থেকে মিজোরামের দূরত্ব দেড়শো কিলোমিটার মতো। সেক্ষেত্রে আগরতলা হয়ে মিজোরামের বাসিন্দারাও রেলপথে বাংলাদেশ অথবা কলকাতায় সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন। ২০২০ সালের মধ্যেই আগরতলা থেকে আখাউরা রেল পথ তৈরি হয়ে যাবে বলেই আশাবাদী রেল মন্ত্রক।