কিছুদিন আগেই ভারত-বিদ্বেষী কথা বলে পাকিস্তানিদের চোখে নায়ক বনার চেষ্টা করেছিলেন ইমরান খান। কিন্তু, এখন  নিজের দেশেই খলনায়কে পরিণত হলেন তিনি। আর তাঁকে এই খলনায়ক বানিয়ে দিল পাকিস্তানেরই অ্যান্টি টেররিস্ট কোর্ট। আর এর জেরেই ‘পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ’-এর প্রধান ইমরান খান এবং ‘পাকিস্তান আওয়ামি তেহরিক’-এর প্রধান তাহিরুল কোয়াদরি-র বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 

২০১৪ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে সরকারি টিভি চ্যানেল পিটিভি-র সদর দফতরে হামলা চালায় ‘পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ’ এবং ‘পাকিস্তান আওয়ামি তেহরিক’-এর কয়েক শো কর্মী-সমর্থক। এদের সকলেরই দাবি ছিল প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে নওয়াজ শরিফের অপসারণের। উত্তেজিত পিটিআই এবং পিএটি-র কর্মী-সমর্থকরা জোর করে পিটিভি কর্মীদের দিয়ে পিটিভি নিউজ এবং পিটিভি ওয়ার্ল্ড-কে ‘অফ-এয়ার’ করে দেয়। এমনকী, ইসলামাবাদে পার্লামেন্ট হাউসেও হামলা করে এই উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকরা। সেইসঙ্গে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে। অনেকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর লোকেদের আলিঙ্গনও করে। এই ঘটনায় পুলিশ পিটিআই প্রধান ইমরান খান এবং পিএটি প্রধান তাহিরুল কোয়াদরির বিরুদ্ধে শুক্রবার পর্যন্ত কোনও রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি। এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অ্যান্টি-টেররিস্ট কোর্টের বিচারপতি কওসর আব্বাস জাইদি। গোটা ঘটনায় ইমরান খান, তাহিরুল কোয়ারদরি সহ মোট ৭০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। অ্যান্টি-টেরোরিস্ট কোর্ট এদিন ইমরান, তাহিরুল সহ ৭০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাই শুধু জারি করে নি, সেইসঙ্গে ১৭ নভেম্বর তাঁদের আদালতে হাজির করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে।