বিশ্বাস করে জামাইয়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন সারা জীবনের সঞ্চয়। আশা ছিল সেই টাকায় বাড়ি তৈরি হবে, আর সেই বাড়িতেই বাকি জীবন সুখে-শান্তিতে কাটিয়ে দেবেন মেয়ে-জামাইয়ের সঙ্গে। সে বাড়ি তৈরিও হল, কিন্তু থাকতে গিয়ে বাঁধল বিপত্তি। ভোল বদলে প্রকাশ্যে এল জামাইয়ের খল চরিত্র। জানতে পারলেন চরম প্রতারিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, খুইয়েছেন অন্তত দেড় কোটি টাকা।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

আর তার পরে কোর্টের নির্দেশে বাড়ি থেকে বের করে দিল পুলিশ। ডাঁই করা মালপত্তর নিয়ে রাতভর রাস্তাতেই কাটাতে হল ৭৮ বছরের অসহায় বৃদ্ধাকে। এখনও সম্পূর্ণ অনিশ্চিত তাঁর ভবিষ্যৎ। অমানবিক এই ঘটনার সাক্ষী সল্টলেকের এ-ই ব্লক।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালে। বর্ধমানের বাসিন্দা বৃদ্ধা মায়া দে-র মেয়ে সোমার সঙ্গে ইরাকের তেল কোম্পানির কর্মী সঞ্জিত রায়ের বিয়ে হয়। এর পর থেকেই সঞ্জিত সোমাকে বলে চলেন, কলকাতায় একটি বাড়ি কেনার জন্য কিছু টাকা প্রয়োজন। বলেন, সোমার মায়ের জমানো টাকা এবং সঞ্জিতের জমানো কিছু টাকা একজোট করে একটি বাড়ি কিনবেন তারা।


শনিবার রাতভর এখানেই কাটে বৃদ্ধার। নিজস্ব চিত্র

সোমা সেই টাকা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর মাকে নিজের নতুন বাড়িতে রাখার প্রস্তাব দিলে সেই প্রস্তাবে প্রথমে রাজি হন সঞ্জিত। এর পরেই সল্টলেকের একটি বাড়ি কেনার জন্য মায়া দে জামাইকে বিশ্বাস করে দেড় কোটি টাকা ব্যাঙ্ক মারফত দেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সোমা এবং সঞ্জিত সল্টলেকের একটি বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু সোমা জানান, তিনি তাঁর মাকে নিজের বাড়িতে আনতে চাইলেই বাধা দিতেন সঞ্জিত। আর সেই বাধা অতিক্রম করে বৃদ্ধা মাকে নিজের কাছে নিয়ে আসার পরই দু’জনের উপরে মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার শুরু করেন সঞ্জিত, এমনই দাবি সোমার।

এর কিছু দিন পরেই উধাও হয়ে যান সঞ্জিত এবং ২০১৬ সালে কোর্টে সোমার বিরুদ্ধে ডিভোর্সের মামলা করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর মায়ের বিরুদ্ধেও একটি মামলা করা হয়। এ বছরই ফেব্রুয়ারিতে সোমা এবং সঞ্জিতের ডিভোর্সের কাজকর্ম মেটে। এর পরই ঘটনা অন্য মাত্রা পায় শনিবার দুপুরে।

২০১৫ সাল থেকে সল্টলেকের এ-ই ব্লকের যে বাড়িতে নিজের মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন এই বৃদ্ধা, শনিবার দুপুরে সেই বাড়িতে আসে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ বাহিনী। পুলিশ জানায়, কোর্টের নির্দেশ— এই বাড়ি দখল করে রাখা যাবে না, এই বাড়ি হস্তান্তর করতে হবে।

দেখুন মর্মান্তিক ভিডিও

 

এর পরেই সোমা দে জানতে পারেন, প্রাক্তন স্বামীর হাতে বাড়ি কেনা বাবদ তাঁর বৃদ্ধা মা যে দেড় কোটি টাকা তুলে দিয়েছিলেন সেটি ছিল প্রতারণার একটি ছক মাত্র। আপাতত ঘর হারিয়ে পথেই আশ্রয় নিয়েছেন ওই বৃদ্ধা এবং তাঁর মেয়ে। শনিবার রাতটিও কেটেছে ৩ বছর ধরে বসবাস করা বাড়ির বাইরের রাস্তায়। রবিবার সকালে আপাতত একটি অস্থায়ী বাসস্থানে মাকে নিয়ে যান সোমা। সুবিচারের আসায় দিন গুনছে ৭৮ বছরের প্রতারিত বৃদ্ধা।