বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে বিড়ম্বনায় স্বাস্থ্যভবন! 

রক্তদাতা দিবস পালনে বৃহস্পতিবার ঢাকঢোল পিটিয়ে স্বাস্থ্যভবনে শিবিরের আয়োজন করেছিল রাজ্য রক্তসুরক্ষা শাখা। কিন্তু সেখানে রক্ত দিয়েছেন মাত্র একজন স্বাস্থ্যকর্তা ও দু’-তিনজন কর্মী। ১০০ জনের রক্ত সংগ্রহের পরিকল্পনা থাকলেও শেষমেশ রক্ত দেন ১৬ জন। 

রক্তদান নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সারাবছরই উদ্যোগী হয় স্বাস্থ্য দফতর। অথচ সেখানকার আধিকারিক এবং কর্মীদেরই রক্তদানে এত অনীহা কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এদিনের ঘটনায় আড়ালে মুচকি হেসেছেনও অনেকে।

স্বাস্থ্যভবন চত্বরে বিশেষ রক্ত সংগ্রাহক গাড়ির ভিতরে রক্ত সংগ্রহের আয়োজন করা হয়েছিল। ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা ঘণ্টাদু’য়েক অপেক্ষা করলেও একজন রক্তদাতাও মেলেনি। ফোন করে অনেককে ডাকা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৬ জন রক্ত দেন। তাঁর মধ্যে ১১ জন কলেজ পড়ুয়া। রক্ত সংগ্রহের বহু খালি প্যাকেট নিয়েই দুপুরে ফিরে যান ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা। 

সূত্রের খবর, এদিন মন্ত্রী ও আধিকারিকেরা স্বাস্থ্যভবনে অন্য এক অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। সেখানেও রক্তদাতা জোগাড় করতে গিয়ে হিমসিম অবস্থা হয়। রক্তদান না-করা নিয়ে এক স্বাস্থ্যকর্তার সাফাই, ‘‘ব্যস্ত ছিলাম। কখন রক্ত দেব!’’ নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ‘স্টেট এইডস প্রিভেনশন কন্ট্রোল প্রোগ্রামে’র এক আধিকারিক বলেন, ‘‘অনেককে রক্তদানের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু কেন তাঁরা শিবিরে গেলেন না বলতে পারব না।’’

 বস্তুত, সমাজসেবার এনএসএস কোর্স করা ওই ১১ জন পড়ুয়া রক্ত না দিলে স্বাস্থ্য দফতরের বিড়ম্বনা আরও বাড়ত। এদিন রক্ত দান করেছেন স্বাস্থ্যকর্তা শম্ভুনাথ দে। তিনি এ নিয়ে মন্তব্য করেননি। তবে রক্তদানের আন্দোলনে যুক্ত একাধিক সংগঠনের কর্তাদের আক্ষেপ, স্বাস্থ্যভবনের কর্মীরাই যদি রক্তদানের বিষয়ে সচেতন না-হন, তবে সাধারণ মানুষকে কী করে তাঁরা সচেতন করবেন!