এ-ও এক কাবুলিওয়ালা আর তাঁর বাঙালি বউয়ের কাহিনি!

দমদম জেলে বন্দি এই কাবুলিওয়ালা নবাব খান পাকিস্তানের বাসিন্দা। এ রাজ্যে এসে এক বাঙালি মেয়েকে বিয়ে করেন। তার পরে সপরিবারে ধরা পড়েন বেআইনি ভাবে এ দেশে থাকার অপরাধে। এ দেশের বাসিন্দা হয়ে এখানেই থাকার আগ্রহ প্রকাশ করলেও ছাড়া পাননি তিনি। অবশেষে ফিরতে রাজি হয়েছেন পাকিস্তানে। গত সপ্তাহে তাঁকে পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিহাড়ে পাঠানো হয়।

১৯৮০’র দশকে পাকিস্তান ছেড়ে আসানসোলে এসেছিলেন নবাব। ফেঁদে বসেছিলেন ব্যবসা। সেই সূত্রেই আসানসোলের বাসিন্দা এক মহিলার সঙ্গে আলাপ এবং বিয়ে। তাঁদের দুই কন্যা ইশরাত এবং আজরা। 
আদতে করাচির বাসিন্দা নবাবের এ রাজ্যে দিন কাটছিল ভালই। মাঝেমধ্যে বজরঙ্গী ভাইজানের মতো চোরাপথে পরিবার নিয়ে পাকিস্তান থেকে ঘুরেও আসতেন নবাব। পাকিস্তানি এক যুবকের সঙ্গে বিয়েও হয় ইশরাতের। এর মধ্যে নবাবও সপরিবারে চলে আসেন টিটাগড়ে।

টিটাগড়েই পারিবারিক গোলমালের জেরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ইশরাতের এক মাসি। তারপরই ২০১২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বেআইনিভাবে এ দেশে থাকার অপরাধে গ্রেফতার হন নবাব, তাঁর স্ত্রী এবং দুই কন্যা। সেই থেকে তাঁরা জেলেই। আদালতে নবাব নিজেকে ভারতীয় বলে দাবি করেন।

গত বছর অগস্টে তাঁদের শাস্তির মেয়াদ শেষ হলেও নবাবরা ছাড়া পাননি। কারা দফতরের এক কর্তা জানান, নবাব বুঝেছেন এদেশের বাসিন্দা হিসাবে দাবি করলে তাঁকে বাকি জীবন জেলেই কাটাতে হবে। সে কারণে গতমাসে তিনি পাকিস্তানে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারপরই তাঁকে পাক দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিহাড়ে পাঠানো হয়। দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের পর দমদম জেলেই ফিরেছেন নবাব।

ওই কারা আধিকারিক জানান, সাধারণত কোনও বন্দিকে ফেরত নেয় না পাকিস্তান। তবে, নবাব যেহেতু অপরাধী নন, তাঁর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। তা না হলে নবাবকে সপরিবারে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকতে হবে দমদম জেলেই।