বিরল কীর্তির সামনে থেকে খালি হাতে ফিরতে হল বাংলার দুই মেয়ে স্কোয়াশ খেলোয়াড়ের। ভারতের স্কোয়াশ ইতিহাসে প্রথমবার দুই বোন তনয়া এবং ত্যাগ্যা পারেখ ডাক পেয়েছিল জুনিয়র জাতীয় দলের ট্রায়ালে। ১৬ থেকে ২০ মে চেন্নাইয়ে হয়েছে ট্রায়াল। আগামী ১৫ অগস্ট জুনিয়র জাতীয় দল এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে জর্ডানে যাচ্ছে।

কিন্তু কোচ না থাকায় লড়াই করেও ১৫ বছরের তনয়া এবং ১২ বছরের ত্যাগ্যা পারেখের ভারতীয় দলে জায়গা হল না। বাংলার স্কোয়াশে নতুন ইতিহাস তৈরির সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পিছনে পারেখ বোনেদের বাবা মোহিত দায়ী করছেন ক্যালকাটা র‌্যাকেট ক্লাবের কর্তাদের! দুই মেয়েকে নিয়ে চেন্নাই থেকে কলকাতায় মোহিত ফিরেছেন রবিবার সকালে।

ক্ষিপ্ত মোহিতের অভিযোগ, ‘‘ক্যালকাটা র‌্যাকেট ক্লাব কোনওভাবে সহযোগিতা করেনি তনয়া এবং ত্যাগ্যার সঙ্গে।’’ তাঁর দাবি, ট্রায়ালে থাকার জন্য দুই বোনের সঙ্গে কোচ দিতে অস্বীকার করেছে র‌্যাকেট ক্লাব। তনয়াদের বাবার অভিযোগ দেশের অন্যতম সেরা কোচ দিলীপ ত্রিপাঠী’ও জাতীয় সংস্থার নির্দেশে ট্রায়ালের এক সপ্তাহ আগে ফিলিপিন্সে চলে গিয়েছেন। তনয়া ও ত্যাগ্যা’কে গত বছর থেকে কোচিং করাচ্ছেন দিলীপ ত্রিপাঠী। মোহিত বলছেন, ‘‘পাঁচ দিনের ট্রায়ালে তনয়া এবং ত্যাগ্যার সঙ্গে কোনও কোচ ছিল না। ম্যাচে গেমগুলোর ফাঁকে খেলোয়াড়রা গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পায় কোচদের কাছে। সেখানে এবার ট্রায়ালে গেমগুলোর ফাঁকে ওরা আমার কাছে পরামর্শ চাইত। আমি কী পরামর্শ দেব? দুই বোনই এবার গেমের ফাঁকে কান্নাকাটি করত!’’

দুই বোন প্রথমে সাঁতার কাটত। কর্নাটকের হয়ে জুনিয়র পর্যায়ের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়মিত নেমেছে দু’জনই। কিন্তু এক বন্ধুর উৎসাহে মোহিত দুই মেয়ের হাতে স্কোয়াশ র‌্যাকেট তুলে দেন চার বছর আগে। বেঙ্গালুরুতে তনয়া এবং ত্যাগ্যার হাতেখড়ি অভিজ্ঞ কোচ জন স্মিথের কাছে। একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকা মোহিতের আরও দাবি, ‘‘কোচ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে অনুশীলন না করার সুযোগ পাওয়া সত্বেও তনয়া কিন্তু ভারতে অনূর্ধ্ব ১৭ পর্যায়ে এখন র‌্যাঙ্কিং ছ’নম্বরে।’’

ক্যালকাটা র‌্যাকেট ক্লাবের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে মোহিতের। তিনি বললেন, ‘‘এখানে অনুশীলন করে তনয়ারা। ওদের ক্লাব থেকে মাত্র আধ ঘণ্টা প্র্যাক্টিসের সময় দেওয়া হয়। যেহেতু আমি ক্লাবের সদস্যপদ নিইনি তাই তনয়াদের প্র্যাক্টিসের সময় বাড়ানো হয়নি! এমনকী, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও র‌্যাকেট ক্লাব থেকে কোচ দেওয়া হয়নি।’’ দিলীপ ত্রিপাঠী’কে অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছেন তনয়াদের বাবা। গত বছর থেকে তাঁর কাছে ট্রেনিং করছে দুই বোন। 
জ্যোৎস্না চিনাপ্পা, দীপিকা পল্লিকল আর সৌরভ ঘোষাল— এই তিন স্কোয়াশ খেলোয়াড়ই দুই বোনের পছন্দের খেলোয়াড়। দুই বোনই নিয়মিত এই তিন খেলোয়াড়ের প্র্যাক্টিসের আর ম্যাচের ভিডিও দেখে। মোহিত বলছেন, ‘‘ওদের কোচ না থাকায় আমি বলি, তোমাদের একলব্য হতে হবে। দ্রোণাচার্য’কে লুকিয়ে দেখেই নিজেদের তৈরি করতে হবে।’’
তনয়া এবং ত্যাগ্যা—দুই বোনই একলব্যের মতো নিঃশব্দে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর অপেক্ষা করছে আগামী বছর আবার ট্রায়াল থেকে যাতে খালি হাতে যেন ফিরতে না হয়!