ছেলেদের স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদে কোনও মহিলাকে মেনে নিতে তাঁর আপত্তি।
শনিবার তাঁর আপত্তির বিষয়টি নিয়ে সরাসরি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক তথা সংশ্লিষ্ট স্কুলের পরিচালন কমিটির সম্পাদক জটু লাহিড়ী। প্রথমবার এইরকম প্রশ্নের মুখে ‘অস্বস্তি’তে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রীও। সতীর্থের আপত্তির কথা শুনলেও প্রবীণ নেতাকে আশ্বস্ত করেননি তিনি। বলেছেন, ‘‘দেখছি।’’
শিক্ষক নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, মিড ডে মিল অথবা স্কুলবাড়ির সংস্কারের মতো অসংখ্য অনুরোধ আসে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। কোনওটা সুপারিশ-সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠান। আবার কোনওটা নাকচ করে দেন। কিন্তু হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্রের দলীয় বিধায়কের এইরকম আপত্তির মুখে পড়ে থমকে গিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। 
দলের অন্যতম শীর্ষনেতা তথা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে অবিলম্বে প্রধান শিক্ষিকার বদলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের আর্জি জানিয়েছেন জটুবাবু। তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রের অন্তর্গত সাঁতরাগাছি কেদারনাথ ইনষ্টিটিউশনের ছাত্র বিভাগে (বয়েজ সেকশন) প্রধান শিক্ষিকা নিয়োগ নিয়ে আপত্তি বিধায়কের। জটু চান, স্কুলের ৯০ বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কোনও পুরুষকেই ওই পদের দায়িত্ব দেওয়া হোক। বিধায়ক তথা পরিচালন কমিটির সম্পাদক জানিয়েছেন, বয়েজ স্কুলের সিংহভাগ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীই পুরুষ। সেখানে প্রধান শিক্ষিকার বদলে প্রধান শিক্ষক চাইছেন তাঁরা।
শিবপুর কেন্দ্রের চারবারের বিধায়ক স্কুলের পরিচালন কমিটির সম্পাদক হিসাবেই ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনে’র চেয়ারম্যান, স্কুলশিক্ষা দফতরের ডিরেক্টর ও শিক্ষা দফতরের যুগ্ম সচিবের কাছে তাঁর এই আপত্তি ও আবেদন জানিয়েছেন। তাতে কাজ না হওয়ায় এদিন শিক্ষামন্ত্রীকেও সেই আবেদনপত্রের ‘কপি’ দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী অবশ্য বলেন, ‘‘এইরকম কোনও নিয়ম আছে বলে আমার জানা নেই। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলব।’’ 
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দমদম কিশোর ভারতী স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিত্যানন্দ বাগচী বলেন, ‘‘গার্লস স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা ও বয়েজ স্কুলে প্রধান শিক্ষকের প্রচলন রয়েছে। নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।’’