একের পর এক তরতাজা প্রাণ শিকার হচ্ছে মারণ খেলা ‘ব্লু-হোয়েল চ্যালেঞ্জ’-এর। ছোট ছেলেমেয়েদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার পিছনে কারণ ঠিক কী, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু তবুও এই অদ্ভুত খেলার হাতছানিতে সাড়া দিচ্ছে নতুন প্রজন্ম। মৃত্যুর প্রলোভন থেকে বাঁচাতে তাই এবার শুরু হচ্ছে আরও একটি চ্যালেঞ্জ, নাম ‘পিঙ্ক হোয়েল চ্যালেঞ্জ’। 

‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’-এ ৫০টি টাস্ক দেওয়া হয়। এই টাস্কের মধ্যে থাকে মাঝরাতে ছাদের কার্নিশ দিয়ে হেঁটে চলা, হাতে ব্লেড বা ছুঁচ দিয়ে ক্ষত তৈরি করা। প্রত্যেকটি টাস্ক-এর পরে প্রমাণ স্বরূপ ছবি তুলে পাঠাতে হয় অ্যাডমিনের কাছে। অন্য দিকে,  ‘পিঙ্ক হোয়েল চ্যালেঞ্জ’-এ দেওয়া হয় ১০৭টি টাস্ক। কিন্তু এই টাস্কগুলি ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’-এর ঠিক বিপরীত। ‘পিঙ্ক হোয়েল চ্যালেঞ্জ’-এ হাতের শিরা কাটতে বা ছাদের ধার দিয়ে হাঁটতে বলছে না। বরং এই চ্যালেঞ্জে যাতে মনের জোর বৃদ্ধি পায়, তেমন কিছু টাস্ক দেওয়া হবে। সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে কোনও দরিদ্র মানুষকে দান করতে বলবে এই চ্যালেঞ্জ। সোমবার মানেই উইকেন্ডের ছুটি কাটানোর পরে আবার থোড়-বড়ি-খাড়া খাড়া-বড়ি-থোড় রুটিন শুরু হয়ে যায়। তাই সেই স্ট্রেস যাতে কখনই অবসাদে পরিণত না হয়, সোমবারই একটি নতুন উজ্জ্বল রংয়ের পোশাক পরে নিতে বলবে এই চ্যালেঞ্জে। কোনও বন্ধুর সঙ্গে বহুদিনের মনোমালিন্য থাকলে তাও ঠিক করে নিতে বলবে এই চ্যালেঞ্জ। 

এই ‘পিঙ্ক হোয়েল’ চ্যালেঞ্জের উদ্যোক্তা হলেন ব্রাজিলের এক অ্যাপ ডেভেলপার। ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’কের প্রতিরোধ করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁর। এ ছাড়া তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, অনলাইনের মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তাও মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। সম্প্রতি ব্রাজিল সরকারই এই খেলাটি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই চ্যালেঞ্জের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ। 

প্রসঙ্গত, নৃশংস খেলা ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’ শুরু করেছিল রাশিয়ার ২১ বছরের যুবক ফিলিপ বুডেকিন।