৩০ জুন মধ্য রাত। মনে রয়েছে ভারতের। সংসদ ভবনে রচিত হয়েছিল ইতিহাস। প্রধান আলো ছিল দু’জনের উপরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। ভারতে শুরু হয়েছিল জিএসটি জমানা।

যদিও আসল কথাটি ‘গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স’ বা পণ্য ও পরিষেবা কর, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেই রাতে বলছিলেন, ‘গুড এ্যান্ড সিম্পল ট্যাক্স’। 

তার আগে ভারতীয়দের কাছে স্পষ্টই ছিল না যে, জিএসটি খায় না, মাথায় দেয়? জিএসটি পুরো কথাটি কী? কেউ বলছেন, ‘গুডনাইট, সুইট ড্রিমস, টাটা’, কেউ বলছেন, ‘গুষ্টির ষষ্ঠী পুজো’— এরকম আরও কত কিছু। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ‘গুড এ্যান্ড সিম্পল ট্যাক্স’। যদিও আসল কথাটি ‘গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স’ বা পণ্য ও পরিষেবা কর।

জিএসটি জমানার সূচনালগ্ন — পিটিআই ফাইল চিত্র 

সেই রাতের এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। আর তার আগে পর পর দু’বার সেই প্রসঙ্গ তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর ৪৫তম ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে মোদী এই একটি বছরকে বলেন, ‘‘সততার উৎসব।’’ একই সঙ্গে এই সাফল্যের কৃতিত্ব দেশের রাজ্যগুলিকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এক দেশ, এক কর ব্যবস্থা এখন বাস্তব। আর এর জন্য আমি যাবতীয় কৃতিত্ব দিতে চাই সব রাজ্যকে।’’

উল্লেখ্য, ঠিক দু’দিন আগেই নয়াদিল্লিতে প্রস্তাবিত বাণিজ্য ভবনের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জিএসটি প্রসঙ্গ উত্থাপন করে কিছু পরিসংখ্যান দেন। যদিও এই বড় পরীক্ষার ফাইনাল রেজাল্ট আউট আগামী ১ জুলাই, মানে পরের রবিবার।

দু’দিনই প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, জিএসটি জমানায় দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ডিজিটাল ভারতের অগ্রগতি হয়েছে। এক বছরে দেশে ৫৪ লাখ নতুন অপ্রত্যক্ষ করদাতা তাদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আগামী রবিবারের আগে হয়তো আরও অনেক সাফল্যের পরিসংখ্যান সামনে আনবেন প্রধানমন্ত্রী তথা কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী লোকসভা নির্বাচনে জিএসটি-সাফল্যও যে বিজেপির প্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠবে তাও এক প্রকার নিশ্চিত।

এক বছর আগে। — পিটিআই ফাইল চিত্র

তবে এর মধ্যেও একটি প্রশ্ন কাঁটা হয়ে উঠবে মোদী তথা বিজেপির সামনে। এক বছর আগে যখন জিএসটি জমানা চালু হয় তখনই বলা হয়েছিল পেট্রোল, ডিজেলকেও এর আওতায় আনা হবে। এ নিয়ে পরে অনেক আলোচনা হয়েছে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু হয়নি। 

গত প্রায় এক মাস ধরে পেট্রোল, ডিজেল দুই জ্বালানির দাম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর কমিয়ে দাম কমানোর জন্য বার বার দাবি উঠেছে। এখন আশা, জিএসটি-র বর্ষপূর্তিতে কি জ্বালানিতে এক দেশ, এক কর নিয়ে নতুন ঘোষণা শোনা যেতে পারে?