নির্বাচন কমিশন চাইছে না। সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে। তবু লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে করার জল্পনা ফিরিয়ে আনলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশজুড়ে বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে বলে রবিবার দাবি করেন নরেন্দ্র মোদী।

রবিবার ছিল তাঁর প্রতি মাসের ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশে একই সঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন করানো ‌যায় কি না তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষ এর পক্ষে ও বিপক্ষে তাঁদের মতামত দিচ্ছেন। গণতন্ত্রের পক্ষে এটি ভাল লক্ষণ।’’
 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ওপি রাওয়াত একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। দিন কয়েক আগেই তিনি জানিয়েছেন, একসঙ্গে নির্বাচনের জন্য সাংবিধানিক রক্ষাকবচ চাই। তাছাড়া নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় গাড়ি এবং ভিভিপ্যাডের অভাবের কারণেও আগামী এক বছরে একসঙ্গে নির্বাচন  করানো সম্ভব নয়। ২০১৯ সালে যে সেটা সম্ভব নয় তা বোঝাতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এও বলেন যে, আইন বদলের জন্যও কমপক্ষে এক বছর সময় লেগে ‌যাবে। 

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারে ওই মন্তব্যের পরে পরেই প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে রবিবার ওই প্রসঙ্গ ওঠায় ফের একসঙ্গে নির্বাচনের জল্পনা তৈরি হয়ে গেল। বিজেপি বরাবরই দেশ একই লোকসবা এবং সব রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করে আসছে। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে সেই দাবি উঠেছে অনেকবার।

গত মাসেই বিজেপি ও কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল এই নিয়ে ল কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাত করে। তার পরেই সংবাদ মাধ্যমে রটে ‌যায় ‌যে আগামী লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে দেশের ১১ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন করিয়ে নিতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার ও শাসক বিজেপি। এই নিয়ে খোদ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ল কমিশনে চিঠি লিখেছেন বলেও জানা যায়।

ওই জল্পনার পরেই কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারই জবাবে মুখ খোলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। মুখ খোলে বিজেপিও। দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, সরকার একসঙ্গে বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচন করাতে চাইছে— এমন খবর নিছকই রটনা। অমিত শাহ ল কমিশনে চিঠি লিখলেও সেখানে একসঙ্গে নির্বাচনের কোনও দাবি করা হয়নি। তবে বিজেপি ‌যেহেতু ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ নীতিতে বিশ্বাস করে তাই লেখা হয়েছে যে, বিজেপি একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন করানোর পক্ষে।

এর পরে প্রধানমন্ত্রী এই নিয়ে মুখ খোলায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি নির্বাচন কমিশন না বললেও উদ্যোগী হবে কেন্দ্রীয় সরকার। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি দুই ভোট এক সঙ্গে করা যায় তবে সেটা সদ্যপ্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে। কারণ, বাজপেয়ীই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বদল এনেছিলেন।

অটল বিহারী বাজপেয়ীর অস্থি নিয়ে গোটা দেশে যে ভাবে বিজেপি ‘অস্থি কলস যাত্রা’ করছে তাতে আগেই রাজনীতির অভিযোগ উঠেছে। বাজপেয়ী সম্পর্কে দেশের সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আবেগ রয়েছে। কেন্দ্র তথা বিজেপি সেই আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা যে করছে তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। এবার বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচন এক সঙ্গে করার প্রস্তাবের সঙ্গেও অটলবিহারীকে শ্রদ্ধা জানানোর প্রসঙ্গে টেলেও কি সেই আবেগ ব্যবহারের চেষ্টাই করলেন প্রধানমন্ত্রী? ‘মন কি বাত’-এর আড়ালে প্রধানমন্ত্রীর মনের ইচ্ছা নিয়ে উঠেছে এমনই প্রশ্ন।