ক’দিন আগেও যিনি রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, তিনিই এখন পুলিশের মামলার মুখে। দলত্যাগী মুকুল রায় এখন শাসক দলের বিষ নজরে। তাঁর বিরুদ্ধে বুধবার চারটি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করল পুলিশ।

এবার মুকুল রায়ের নামে এফআইআর করল বালুরঘাট থানার পুলিশ। তাও আবার জামিন অযোগ্য ধারায়। সিপিআইএম-এর বহিষ্কৃত সাংসদ ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের বিচারাধীন মামলার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হল প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায়ের নাম। মুকুল রায়ের বিরুদ্ধেও এফআইআর করা হয়েছে ওই মামলার সূত্রে।

জানা গিয়েছে, ঋতব্রতর প্রাক্তন বান্ধবী পেশায় সফ্‌টওয়ের ইঞ্জিনিয়ার নম্রতা দত্তর তোলা অভিযোগের ভিত্তিতে বালুরঘাট থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারাসহ মোট চারটি ধারায় এফআইআর করেছে। পুলিশের দায়ের করা এফআইআর সংক্রান্ত কাগজপত্র  ইতিমধ্যে সিআইডিকে হস্তান্তরও করে দেওয়া হয়েছে বলে বালুরঘাট থানা সূত্রে জানা গিয়েছে। 

বালুরঘাট থানার আইসি সঞ্জয় ঘোষ জানিয়েছেন,  ভারতীয় দণ্ড বিধির ১২০(বি), ১৯৫(এ), ২১৪ ও ৫০৬ ধারায় মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। নম্রতা দত্ত বালুরঘাট থানায় হাজির হয়ে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়, অর্চনা মজুমদার ও দূর্বা সেনের পাশাপাশি মুকুল রায়ের বিরুদ্ধেও ভয় দেখিয়ে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন। মামলা তুলে না নিলে বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণ করার হুমকি দেওয়া এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য মোটা টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেওয়ার অভিযোগও করেছেন নম্রতা।

ইতিমধ্যেই মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী অর্চনা মজুমদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। জেরা করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। এবার কি মুকুল রায়কেও তলব করবে রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ? তৈরি হল নতুন জল্পনা।