মাঝেরহাট বিপর্যয়ে আবার আতঙ্ক ফিরল পোস্তায়, গণেশ টকিজে। এখনও যে চোখের সামনে মূর্তিমান আতঙ্ক দাঁড়িয়ে রয়েছে। দু' বছর আগে এই এলাকার বাসিন্দাদের চোখের সামনে ভেঙে পড়েছিল পোস্তা উড়ালপুল। মৃত্যু হয়েছিল অনেকের। সেই স্মৃতি আজও তাঁদের তাড়া করে ফেরে।

মাঝেরহাট সেতু ভেঙে পড়ার পরে পোস্তার বাসিন্দাদের কাতর আর্জি, এবার অন্তত ভেঙে ফেলা হোক অভিশপ্ত পোস্তা উড়ালপুল। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

পোস্তা উড়ালপুল ভেঙে পড়ার মুহূর্তে কয়েক সেকেন্ডের জন্য প্রাণে বেঁচেছিলেন গণেশ টকিজ এলাকার বাসিন্দা দুই ভাই রাজকুমার এবং রাহুল সোনকার। কিন্তু চোখের সামনে থেকে মৃত্যু দেখার আতঙ্ক মনের মধ্যে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলেছিল। মঙ্গলবার মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার খবর পেয়েই টিভিতে চোখ রেখেছিলেন রাজ। টিভিতে মাঝেরহাট ব্রিজের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মিনিবাস, গাড়ি আটকে থাকতে দেখে চোখের সামনে দেখা পোস্তা বিপর্যয়ের স্মৃতি ভেসে আসছিল রাজের মনে। টিভি দেখতে দেখতেই বললেন, "নীচে কত মানুষ চাপা পড়ে আছে কে জানে!সেই একই রকম ছবি।" এর পরেই ক্ষোভের সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, "সরকার কী করছে? নজরদারি থাকলে বার বার এভাবে ব্রিজ ভাঙে কি করে? সরকারের তো কিছু না, আমাদের মতো মানুষই মরে।" একই সঙ্গে তিনি জানালেন, এলাকার সবাই চান পোস্তার অসমাপ্ত ব্রিজ ভেঙে ফেলা হোক।

রাজ সোনকারের মতো অনেকের মনেই
ফিরল ভয়াবহ স্মৃতি। নিজস্ব চিত্র

পোস্তা উড়ালপুলের গা ঘেঁষেই বাড়ি রাজকুমার জৈনের। এমনিতেই প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে থাকেন। মঙ্গলবারের পর সেই আতঙ্ক কয়েকগুণ বেড়েছে। একটাই প্রশ্ন, এখন‌ও কেন ভেঙে ফেলা হচ্ছে না ভেঙে পড়া পোস্তা উড়ালপুল? রাজকুমারবাবুর‌ও অভিযোগ, এখনও স্থানীয় বিধায়ক বা কাউন্সিলর ব্রিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের কিছুই জানায়নি।

পোস্তা সেতু ভেঙে পড়ার পর থেকেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক মনে নিয়েই ভেঙে পড়া সেতুর সঙ্গে বাস করছিলেন গনেশ টকিজ, পোস্তার বাসিন্দারা। মঙ্গলবারের পর তাঁরা আর কোনও আপস করতে রাজি নন। একটাই দাবি, ভেঙে ফেলা হোক পোস্তা উড়ালপুল।