এই মর্মে আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল যে, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলে মুকুল রায়ের অনুগামীরাই কি বিজেপিতে ছড়ি ঘোরাতে থাকবেন?

মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে রাজ্য রাজনীতি মুকুল-বিশ্ব বাংলা-অভিষেক নিয়ে সরগরম থাকলেও, গেরুয়া সংগঠনের নিচু তলায় আশঙ্কার মেঘ গাঢ় হতে শুরু করেছে।

বিজেপির সংগঠনে মুকুল-অনুগামীদের দাপাদাপি বৃদ্ধির প্রথম লক্ষণটি দেখা গিয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহরে। একটি হোর্ডিং ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিজেপির অন্দরেই।

মুকুল রায়ের সমর্থনে পোস্টার ও হোর্ডিং ছেয়ে গিয়েছে রায়গঞ্জ শহরে। সেখানে মুকুলের উজ্জ্বল ছবির সঙ্গে পদ্মফুল, নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও দিলীপ ঘোষের ছবি ছোট করে থাকলেও, সেখানে বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি নির্মল দামের ছবি নেই।

বরং তাঁর জায়গায় হোর্ডিং-এ স্থান পেয়েছে একদা বিজেপি নেতা, দলত্যাগী শুভ্র রায়চৌধুরীর ছবি।

এই সেই বিতর্কিত হোর্ডিং। নিজস্ব চিত্র।

এই শুভ্র রায়চৌধুরীই মুকুলের হাত ধরে বিজেপি থেকে তৃণমূলে গিয়েছিলেন। তিনি জেলা তৃণমূলের পদাধিকারীও ছিলেন। মুকুল তৃণমূল ছাড়তেই, তিনিও তৃণমূল থেকে ইস্তফা দেন। 

তবে শুভ্র এখনও বিজেপিতে যোগ দেননি।

এদিকে শুভ্র রায়চৌধুরীর সঙ্গে মুকুল রায়ের পোস্টার দেখে তেলে-বেগুনে জ্বলছেন জেলা নেতৃত্ব। শুক্রবার সকালেই একটি বৈঠকে আলোচনা হয় পোস্টার-সংক্রান্ত বিষয়ে। 

বিজেপি’র জেলা সভাপতি নির্মল দাম দলগতভাবে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি মুকুল রায় ও দলীয় নেতৃত্বের ছবি-সহ বিতর্কিত ওই ব্যানার ও ফ্লেক্সগুলি খুলে ফেলার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

দলের জেলা সভাপতি নির্মল দামজানিয়েছেন, “মুকুল রায়ের সমর্থনে দলের রাজ্য, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ছবি ও দলের প্রতীক ব্যবহার করে শহরে বেশকিছু ফ্লেক্স লাগানো হয়েছে। তাতে দল থেকে সাসপেন্ড হওয়া প্রাক্তন জেলা সভাপতি শুভ্র রায়চৌধুরীর ছবিও রয়েছে। এই ফ্লেক্সগুলি সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রথমত, দলের কোনও অনুমতি না নিয়েই দলের নেতাদের ছবি ও প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, তৃণমূলের কোনও নেতার ছবি আমাদের দলের নেতাদের সাথে একই ফ্লেক্সে থাকতে পারে না। শুভ্র রায়চৌধুরী বর্তমানে আমাদের দলের কেউ নয়। দলে পুনরায় যোগ দেবার জন্য সে আবেদনও করেনি।’’

যাঁকে নিয়ে এই বিতর্ক, সেই শুভ্র রায়চৌধুরী সাফাই দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন,“ মুকুল রায়কে দেখেই আমি তৃণমূলে গিয়েছিলাম। এখন উনি বিজেপিতে মানে, আমিও সেই দলে রয়েছি। এর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ওই দলে যোগ দিতে হবে বলে আমি মনে করি না। আমার কোনও গুণগ্রাহী হয়তো উৎসাহী হয়ে এই কাজ করেছে। এতে আমি কোনও অন্যায় দেখছি না।’’

আর যিনি এই পোস্টারগুলি লাগিয়েছেন, সেই বিজেপি কর্মী অভিজিত যোশী জানিয়েছেন, “শুভ্র রায়চৌধুরী এই জেলায় মুকুল রায়ের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সেই কারণেই আমি ওই ফ্লেক্সগুলি
লাগিয়েছি।’’