বৃষ্টি আটকাতে পারেনি জন-সুনামি। ছাতা আরও রঙিন করেছে সমাবেশ। সব মিলিয়ে লোকসভা ভোটের আগে শেষ একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে আনন্দের খামতি ছিল না। আকাশে কালো মেঘের মধ্যেও রোদের ঝিলিক এনেছেন নবাগতরা। কিন্তু কে জানত, নতুন আলোর মধ্যেই মিশে আছে আঁধার!

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

শনির একুশে রবি সকালেই বিতর্কে ফ্যাকাশে‌। মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারী, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের মাঝে চকচক করছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ। এই ছবি ঘিরেই বাড়ছে রাগ, ক্ষোভ, অসন্তোষ। আর সেটা একেবারে তৃণমূলের অন্দরমহলে।


২১ জুলাই-এর সভায় ঋতব্রত। নিজস্ব চিত্র

না, নেত্রীকে বলা যাবে না। তাই নিজেদের মধ্যেই ক্ষোভ বিনিময় চলছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, এমন নেতার সংখ্যা নেহাত কম নয়। এর মধ্যে কয়েকজন প্রথম সারির মন্ত্রীও রয়েছেন।

এক ক্ষুব্ধ নেতা তথা মন্ত্রীর বক্তব্য, "দলে থেকে তো সব কিছুর প্রতিবাদ করা যায় না। মন না চাইলেও মেনে নিতে হয়। সবারই এক অবস্থা। দিল্লিতে দিদিকে খুনের ছকের মূল মাথার সঙ্গে এক মঞ্চে বসতে হল বাধ্য হয়ে।"


নয়াদিল্লিতে এসএফআই-এর ক্ষোভের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত মিত্র, ২০১৩। নিজস্ব চিত্র

উল্লেখ্য ২০১৩ সালে দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে এসএফআই। নেতৃত্বে ছিলেন সিপিএম সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আহত হন মমতা ছাড়াও দুই মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও অমিত মিত্র। দিল্লির এইমস-এ নিয়ে যাওয়া হয় সকলকে। পরে কলকাতায় বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা চলে মুখ্যমন্ত্রীর।

সেই প্রসঙ্গ টেনে এক জেলার নেতা বলেন ‘‘সেই সময়ে গোটা রাজ্যে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল। টিএমসিপি রক্ত দিয়ে প্রতিবাদপত্র লিখেছিল শঙ্কুদেবের নেতৃত্বে‌।’’ 

তিনি আরও জানান, ‘‘শনিবার আমন্ত্রণ পেয়ে একুশের সভায় এসেছিল শঙ্কুদেব, কিন্তু ঋতব্রতকে দেখে মঞ্চে ওঠেনি। দলে সে ভাবে না থাকায় ও প্রতিবাদ করতে পারে, কিন্তু আমাদের মেনে নিতে হয়।’’


শঙ্কুদেব পণ্ডার ফেসবুক পোস্ট

উল্লেখ্য, এ নিয়ে শঙ্কুদেব পণ্ডা ফেসবুকে পোস্টও করেন। কেন এমন ক্ষোভ? প্রশ্নে শঙ্কুদেবের জবাব, ‘‘লিখেই তো দিয়েছি, নো কমেন্টস।’’

কিছু দিন আগের নম্রতাকাণ্ডও উঠেছে তৃণমূলের ক্ষোভ-আলোচনায়। তাঁদের বক্তব্য, "দলের অবস্থা এত খারাপ নয় যে, সিআইডি তদন্ত চলা, সিপিএম থেকে তাড়ানো পাতি নেতাকে একুশে জুলাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে বসাতে হবে।" 

সব মিলিয়ে ক্ষোভ জমেছে, জমছে। তৃণমূল সূত্রে খবর সে ক্ষোভ টের পেয়েছেন নেত্রীও।