সইফ আলি খান ও করিনা কপূর খানের পুত্রসন্তানের জন্মদিন হল ২০ ডিসেম্বর এবং জন্মলগ্ন ৭.৩০ মিনিট। শোনা যাচ্ছে, নাম রাখা হয়েছে তৈমুর আলি খান। সন্তানের জন্মদিন ও জন্মলগ্ন অনুযায়ী তার ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হবে, তা নিয়ে যেমন চর্চা করা হয় ভারতীয় বা বৈদিকে জ্যোতিষে, পশ্চিমী জ্যোতিষেও তাই। এই দুই মতেই এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক, কেমন হতে পারে সইফ-করিনার সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং ঠিক কীরকম হতে পারে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। 

পশ্চিমী মতে, করিনার সন্তান স্যাজিটেরিয়াস বা ধনুর জাতক। এই রাশির জাতকেরা সাধারণত পায়ের তলায় সর্ষে নিয়ে জন্মায় অর্থাৎ কাজের সূত্রেই হোক বা নিছক বেড়ানোর উদ্দেশে, তাদের ভাগ্যে বিদেশযাত্রা থাকেই থাকে। পশ্চিমী মতে, ধনুর জাতকেরা অত্যন্ত আমুদে, স্বাধীনচেতা ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়। পশ্চিমী জ্যোতিষে বলা হয় ধনুরা হলেন অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়। তাঁরা জীবনকে সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করতে চান। তবে করিনা ও সইফের সন্তান অফিসিয়ালি ধনু হলেও আদতে কিন্তু সে স্যাজিটারিয়াস ও ক্যাপ্রিকর্নের কাস্প। একটি রাশির শেষ ও অন্য রাশির শুরুর তারিখগুলি পশ্চিমী জ্যোতিষে নির্দিষ্ট। 

পশ্চিমী জ্যোতিষে স্যাজিটারিয়াসের পর্যায় হল ২২ নভেম্বর থেকে ২১ ডিসেম্বর আর ক্যাপ্রিকর্নের পর্যায় হল ২২ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি। ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা হয় স্যাজিটারিয়াস-ক্যাপ্রিকর্ন কাস্প। এই কাস্পটিকে বলা হয় দ্য কাস্প অফ প্রফেসি। এই কাস্পের মধ্যে যাদের জন্ম, তারা একইসঙ্গে অত্যন্ত আশাবাদী এবং বাস্তববাদী। তারা যেমন বিরাট বড় স্বপ্ন দেখে, পাশাপাশি সেই স্বপ্নকে সত্য করে তোলার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞও হয়ে থাকে। এরা সহজে প্রেমে পড়ে না কিন্তু প্রেমে সত্যি পড়লে, সম্পর্কে অত্যন্ত বিশ্বস্ত থাকে। 

এবার দেখা যাক, বৈদিক জ্যোতিষ কী বলছে। এই মতে, জন্মকুণ্ডলী তৈরি করা হয় জন্মলগ্ন অনুযায়ী। সংবাদমাধ্যমের কাছে খবর, ২০ ডিসেম্বর, মুম্বইতে সকাল ৭.৩০ মিনিটে জন্মগ্রহণ করেছে সইফ-করিনার সন্তান। বৈদিক জ্যোতিষ সফটওয়্যার বলছে, এই সন্তানের রাশি সিংহ। জন্মের সময়ে আকাশে ছিল পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্র। জাতক মাঙ্গলিক নয় এবং বর্তমানে শনির সাড়েসাতি দশা নেই। 

জাতকের জন্মকুণ্ডলীতে পঞ্চম স্থানে রয়েছে চন্দ্র ও রাহুর গ্রহণ যোগ। এই যোগের প্রভাবে জীবনে খুব খারাপ প্রভাব পড়তে পারে আবার প্রচুর অনুগামী হতে পারে, মহাত্মা গাঁধীর মতো। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে বৃহস্পতি, যা বেশ ভাল লক্ষণ। ব্যক্তিগত জীবনে ও কর্মক্ষেত্রে শান্তি থাকবে। অষ্টম স্থানে রয়েছে শনি। এর ভাল এবং মন্দ দুই দিকই রয়েছে। জাতক জীবন সম্পর্কে অত্যন্ত সিরিয়াস মনোভাবাপন্ন হবে। নবম স্থানে বুধ থাকা খুবই ভাল। জাতকের বাগ্মিতাশক্তি উচ্চমানের হয়। আবার নবম স্থানে সূর্যও রয়েছে। নবমে সূর্য থাকলে জাতক ধার্মিক ও দার্শনিক মনোভাবাপন্ন হয়।  

দশম স্থানে রয়েছে শুক্র। জাতক প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন তো হবেই, পাশাপাশি অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্বভাবেরও হবে। একাদশ স্থানে রয়েছে মঙ্গল যার ফলে জাতক অত্যন্ত সম্পদশালী ও সামাজিক প্রতিষ্ঠাসম্পন্ন হবে। কিন্তু ওই একই স্থানে রয়েছে কেতু। তাই এই গ্রহের কিছু কুপ্রভাব তো থাকবেই। তবে সাধারণত কেতু একাদশ স্থানে থাকলে তা অর্থ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভাল। 

আরও পড়ুন

মা হলেন করিনা! কী বললেন সইফ? 

উপরে উল্লিখিত বিশ্লেষণ একেবারেই তাত্ত্বিক। পশ্চিমী ও বৈদিক জ্যোতিষে লিপিবদ্ধ কিছু বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করে লেখা। এটা সম্পূর্ণত একটি আনুমানিক ব্যাখ্যা, যথার্থ বা অব্যর্থ নয়।