ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর হেরিটেজ জট অবশেষে কাটতে চলেছে। রেলমন্ত্রক সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ের উদ্যোগে অর্ডিন্যান্স বা আইন সংশোধনের রাস্তা এড়িয়েই সমাধানসূত্র বার করা হয়েছে। 

‘আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ এবং ‘মনুমেন্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’র কড়া নজরদারিতে শর্তসাপেক্ষে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার অনুমতি পাচ্ছে ‘কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে কর্পোরেশন লিমিটেড’ (কেএমআরসিএল)। ওই সমাধানসূত্রের কথা আজ, সোমবার সরকারিভাবে জানিয়ে দেওয়া হতে পারে। 
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর যাত্রাপথে বেথেল সিনাগগ, ম্যাগেন ডেভিড সিনাগগ এবং কারেন্সি বিল্ডিংয়ের মতো তিনটি হেরিটেজ ভবন থাকায় ওই পথ দিয়ে সুড়ঙ্গ খননের ক্ষেত্রে অসুবিধা দেখা দেয়। ১৯৫৮ সালের হেরিটেজ আইন অনুযায়ী, হেরিটেজ ভবনের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনওরকম নির্মাণ কাজ করা যায় না। তিনটি

হেরিটেজ ভবনের পাশ দিয়ে সুড়ঙ্গ খননের বিষয়টি এই আইনের বাধাতেই আটকে ছিল। 
হেরিটেজ সংক্রান্ত জট কাটাতেই ঠিকাদার সংস্থা অ্যাফকন্‌স কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। মামলার শুনানি চলাকালীনই দিল্লি মেট্রোর হেরিটেজ লাইন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমতিদানের প্রসঙ্গটি ওঠে। দেখা যায় দিল্লি মেট্রোর হেরিটেজ লাইনে শের শাহ নির্মিত ‘খুনি দরওজা’র ১০০ মিটারের মধ্য দিয়েই সুড়ঙ্গ খনন করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। দিল্লিতে অনুমতি দেওয়া গেলে কলকাতায় নয় কেন, এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। 

এই জটিলতার মধ্যেই সমাধানসূত্র খোঁজার ব্যাপারে বিশেষভাবে তৎপর হন কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প প্রতিমন্ত্রী বাবুল। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্প বাবুলই দেখভাল করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যুক্তি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর বিল এনে হেরিটেজ আইন সংশোধন বা অর্ডিন্যান্স জারির ক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়েছিল।

এর পর বাবুল ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো সংক্রান্ত যাবতীয় নথি নতুন করে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠান।

পাশাপাশি, গোটা দেশে মেট্রো প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা মিশন ডিরেক্টর মুকুন্দ সিংহকে নিয়ে সমাধান সূত্র খোঁজার সর্বাত্মক চেষ্টা শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ‘আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ এবং ‘মনুমেন্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’র সঙ্গে আলোচনায় জট খোলে।